খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে শিশু কাজী ফুজাইল (২) অপহরণের প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কেশবপুর বাজার এলাকা থেকে শাহনেওয়াজ চৌধুরী বাপ্পারাজ (৩০) নামের ওই আসামিকে আটক করা হয়। সোমবার র্যাব এই তথ্য জানান।
শিশু ফুজাইলের অপহরণ ঘটেছিল গত ২১ মার্চ, ঈদের দিন। বাবা-মায়ের সঙ্গে অসুস্থ নানাকে দেখতে ঢামেক গেলে শিশুটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা ফোন করে শিশুটির মুক্তিপণ হিসেবে সাড়ে তিন লাখ টাকা দাবি করে। ঘটনার পর শিশু ফুজাইলের বাবা শাহবাগ থানায় অপহরণের মামলা করেন।
র্যাবের সূত্রে জানা যায়, শিশুটিকে উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য কয়েক ধাপে অভিযান চালানো হয়। প্রথমে রাজধানীর ধলপুর এলাকা থেকে আরেক অপহরণকারী এম এম তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী রাতে প্রধান আসামি শাহনেওয়াজকে হবিগঞ্জে ধরে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাবের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশু ফুজাইল বর্তমানে পরিবারের নিরাপদে রয়েছে।
শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে বেড়ে চলা অপরাধ প্রবণতার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও জনসমাগমস্থলে আরও কঠোর নজরদারি জরুরি।
নিচের টেবিলে ঘটনাটির মূল সময়রেখা ও অভিযুক্তদের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | অভিযুক্ত/প্রত্যক্ষ ব্যক্তি | অবস্থান | Remark |
|---|---|---|---|---|
| ২১ মার্চ, দুপুর | শিশু ফুজাইল ঢামেকে নিখোঁজ | অজ্ঞাত অপহরণকারী | ঢামেক, ঢাকা | মুক্তিপণ দাবি ৩.৫ লাখ টাকা |
| ২১ মার্চ, রাত | এম এম তানভীর গ্রেপ্তার | এম এম তানভীর (অপহরণকারী) | ধলপুর, ঢাকা | তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামি শনাক্ত |
| ২২ মার্চ, রাত ১.৩০ | প্রধান আসামি শাহনেওয়াজ গ্রেপ্তার | শাহনেওয়াজ চৌধুরী বাপ্পারাজ (৩০) | কেশবপুর বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ | পুলিশে হস্তান্তর |
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনার মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা পুনরায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই ঘটনার পর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আরোপের দাবি উঠেছে, যাতে ভবিষ্যতে শিশুদের অপহরণের মতো ঘটনায় সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়।
শিশু ফুজাইলের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের সহযোগিতায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা ও আসামিদের গ্রেপ্তার সমাজে আইনের শাসনের ওপর আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।