খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের দাবি সামনে এসেছে। দেশটির সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত প্রতিরক্ষা অভিযানে তারা একাধিক উন্নত যুদ্ধবিমান, শতাধিক ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এই তথ্য ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শক্তি ও প্রস্তুতির নতুন একটি চিত্র তুলে ধরছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
সামরিক পরিদর্শনকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী রেজা এলহামি বলেন, ইরানি প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো শত্রুপক্ষের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারকারী বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমকিউ-৯, ইসরায়েলি হার্মিস সিরিজ এবং লুকাস মডেলের ড্রোনও রয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬০টিরও বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে, পাশাপাশি একাধিক চতুর্থ ও পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য শুধু সামরিক অর্জন নয়, বরং এটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সমন্বিত সক্ষমতা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা এবং কৌশলগত প্রস্তুতির ফল। তাঁর মতে, এসব কার্যক্রম আক্রমণকারী শক্তির প্রচারিত “কাল্পনিক প্রোপাগান্ডা”কে দুর্বল করে দিয়েছে এবং তাদের আকাশপথে কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করেছে।
আল রেজা এলহামি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এখন সম্পূর্ণভাবে সমন্বিত অবস্থায় কাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের আকাশ হামলা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের আকাশসীমা রক্ষায় তারা কোনো ধরনের আপস করবে না।
অন্যদিকে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক স্থাপনায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর ফলে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আকাশপথে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে ইরানি সামরিক সূত্রের ভাষ্য।
| লক্ষ্যবস্তুর ধরন | সংখ্যা (প্রায়/ঘোষিত) | বৈশিষ্ট্য | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| উন্নত ড্রোন | ১৬০টির বেশি | এমকিউ-৯, হার্মিস, লুকাসসহ বিভিন্ন মডেল | নজরদারি ও আক্রমণ সক্ষম ড্রোন |
| যুদ্ধবিমান | একাধিক (নির্দিষ্ট সংখ্যা অপ্রকাশিত) | ৪র্থ ও ৫ম প্রজন্মের ফাইটার জেট | প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত বিমান |
| ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র | কয়েক ডজন | দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত সক্ষম | প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ধ্বংস |
সামগ্রিকভাবে, ইরানের এই দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।