খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলার কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহরগুলোতে জীবনযাপন করতে হচ্ছে স্থানান্তরিত ফিলিস্তিনিদের। দুই বছর ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে উপত্যকার অধিকাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে তাবুতে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি একই রকম; স্বাস্থ্যঝুঁকি, দূষণ এবং পানির ঘাটতি এখনও দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে আছে।
রিমাল এলাকায় আবু আমর পরিবার এই মানবেতর অবস্থার মুখোমুখি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ১৭ বারের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে তারা আবর্জনার পাশে একটি তাবুতে বসবাস করছেন। ৬৪ বছর বয়সী আবু আমর বলেন, “গাজায় আমরা দুটি যুদ্ধের মধ্যে বসবাস করছি—একটি বোমা হামলা, আরেকটি আবর্জনা। আমার অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে। রাতে তাবুর মধ্যে দুর্গন্ধ ও দূষণের কারণে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়।”
তাদের পরিবারে পাঁচ সন্তানের জননী সুরাইয়া আবু আমর বলেন, “তাবুতে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। পানির তীব্র সংকট রয়েছে। তাই মাসে কয়েকবার পেটের সমস্যায় ভুগতে হয়। আগে আমরা পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করতাম, কিন্তু এখন আশ্রয়হীনতার মধ্যে বাঁচার চেষ্টা করছি।”
গাজার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিশেষজ্ঞদের মতে ভয়াবহ। আল-শিফা মেডিক্যাল কমপ্লেক্সের ফুসফুস বিভাগের প্রধান আহমেদ আলরাবিই বলেন, “ময়লা, নর্দমার পানি এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধের আগে এমন পরিস্থিতি আমরা কখনো দেখিনি।”
গাজা মিউনিসিপ্যালিটির তথ্য অনুযায়ী, পানির অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। শহরের ভেতরে ১.৫ লাখ মিটার পাইপ এবং ৮৫ শতাংশ পানির কূপ ধ্বংস হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহকারী প্ল্যান্টও ভগ্ন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ব্যর্থ; শহরজুড়ে ৭ লাখ টনের বেশি বর্জ্য জমে আছে।
গাজাবাসীর জীবনযাত্রা পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| বিষয় | পরিসংখ্যান / বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ফিলিস্তিনি | ৭০,০০০+ |
| শিশু নিহত | ৪০০+ (যুদ্ধবিরতির পর) |
| ধ্বংস হওয়া ভবন | অধিকাংশ |
| ধ্বংস হওয়া পানির কূপ | ৮৫% |
| ধ্বংস হওয়া পাইপলাইন | ১.৫ লাখ মিটার |
| শহরে জমে থাকা বর্জ্য | ৩.৫ লাখ টন (শুধু গাজা নগরীতে) |
| উপত্যকায় মোট বর্জ্য | ৭ লাখ টন+ |
৪০ বছর বয়সী সেলিম বলেন, “বর্জ্যের পাশে থাকার কারণে আমরা চরম হতাশায় ভুগছি। আমার সন্তানেরা শীত ও গরমে কষ্ট পাচ্ছে। দুর্গন্ধে খেতে বসলে খাবার পেটে যায় না।” ঝড়ের সময়ে নর্দমার পানি তাবুর ভিতরে ঢুকে পড়ে, কাপড় নোংরা হয়ে যায় এবং শিশুরা তীব্রভাবে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
১৩ বছর বয়সী রাহাফ বলেন, “পরিচ্ছন্নতার অভাবে আমার চুল পড়ছে, ত্বকেও সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।” গাজার জনগণ এই মানবেতর পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিদিন লড়ছে। তবু আন্তর্জাতিক সাহায্য এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ছাড়া তাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হওয়া প্রায় অসম্ভব।