মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ই জুন ২০২৬, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ধর্ষণের পর শিশু হত্যা: কাঠগড়ায় সোহেল দম্পতি চামড়ার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং কোরবানির মৌসুমে সরকারি দামের অকার্যকারিতা ইউরেনিয়াম মজুত হস্তান্তর করলেও বহাল থাকবে ইরানের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঈদের সকালে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল ২ শিশুর ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যে তীব্র ঊর্ধ্বগতি মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন তেল ট্যাংকারে ইরানের সামরিক বাহিনীর হামলা ইরানে নতুন মার্কিন হামলা ও বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হাসপাতালে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই প্রাণহানি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে একসঙ্গে ছয়টি নবজাতক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু

ঈদ সংখ্যা ২০২৫

স্মৃতিকথা

তাঁরা থাকা-না থাকাময় ঈদ

মনজুর রশীদ বিদ্যুৎ

প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

তাঁরা থাকা-না থাকাময় ঈদ
ছবি: খবরওয়ালা গ্রাফিক্স

অনেক সকাল থেকেই আম্মার ডাকাডাকি। আম্মা, উঠছি, বলে আলস্য ভাব আমার আর কাটে না। হাতে টুথপেস্ট আর ব্রাশ ধরিয়ে দিয়ে ‘ওঠ বাবা, ওঠ’ বলে আম্মা যন্ত্রণা দিয়েই যাচ্ছেন। আব্বার অস্থিরতা তো আরও একধাপ বেশি। সেই ফজরের নামাজের পর থেকে ছেলেদের নিয়ে কখন ঈদের জামাতে গিয়ে আগে বসবেন, সেই অপেক্ষা তার আর ভালো লাগে না। বড় ভাই আর মেজ ভাই এ ক্ষেত্রে করিতকর্মা হলেও আমি বরাবরই অলস। যত ঘুম আর অলসতা যেন ঈদের দিন সকালেই আমার ঘাড়ে চেপে বসে। এদিকে এত দেরি সইতে না পেরে আব্বা একাধিক জায়নামাজ নিয়ে বেশ আগেই ঈদগাহ মাঠে চলে যান। হাজারো মানুষের ভিড়ে জায়নামাজ পেতে ঠিকই তিনি তিন ছেলের জন্য জায়গা দখল করে অপেক্ষায় থাকেন।

চোখ মেলে তাকাতে পারি না। আম্মার রান্নার ব্যস্ততার সকালের পর্ব আপাতত শেষ। ঈদের আগের দিনের সকাল থেকেই তো রান্নাবান্নার যত প্রস্তুতি শুরু। কখন দাঁত মাজব, শেভ করব, গোসল সম্পন্ন করে নতুন পায়জামা-পাঞ্জাবি পরব, নামাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে সেমাই, পায়েস আর জর্দা খাব, তার জন্য আম্মার অস্থিরতার শেষ হয় না। অবশেষে আম্মার পরিবেশনায় সকালের প্রথম পর্বের নাশতা সম্পন্ন করে তিন ভাইয়ের একসাথে ঈদ মাঠের উদ্দেশে রওনা হওয়া আমাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক রেওয়াজ। ঈদগাহের দিকে যাত্রা করার সময় প্রতিবার আম্মাও আমাদের সাথে সাথে অনেকটা পথ এগিয়ে এসে আমাদের বিদায় জানাবেন, এটা যেন ছিল তাঁর চিরায়ত অভ্যাস।

নামাজ শেষে মাঠেই আব্বা আর আমরা তিন ভাই সবার আগে নিজেদের মধ্যে কোলাকুলি করি। তারপর মাঠে উপস্থিত আত্মীয়স্বজন বা পাড়াপ্রতিবেশীদের সাথে। এর পরের অধ্যায় বাসায় ফিরে আমাদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের বাধ্যতামূলকভাবে ঈদ সেলামি গ্রহণের প্রতিযোগিতা। আব্বা আর আম্মা তার ছেলেমেয়ে, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিদের দিয়ে শুরু করেন ঈদ সেলামির পর্ব। এরপর বড় ও মেজ ভাইয়ের পালা। ওরা এই কর্মটি সেই কত বছর ধরে একইভাবে পালন করে যাচ্ছে। সেলামি দেওয়ার ক্ষেত্রে মজা করার জন্য প্রতিবারই আমি কিছুটা ধীরেসুস্থে অগ্রসর হতে চেষ্টা করি। ছোট-বড় সবাই এ জন্য আমাকে নানা তির্যক মন্তব্য করতে ছাড়ে না। কিন্তু টাকা না দিয়ে যাব কোথায়? ছোট দুই বোন, ভাগনে-ভাগনি, ভাতিজিদের আমার কাছ থেকে টাকা আদায় মানে বিশ্ব জয় করার মতো! 

এ সময় থেকেই শুরু হয় আম্মার আরেক অস্থিরতা। সকালের দ্বিতীয় পর্বের নাশত হিসেবে খিচুড়ি, ভুনা মাংস, পায়েসসহ তার তৈরি করা প্রতিটা আইটেম কখন সবাই খাবে। আসলে আমরাও চুপচাপ থাকি আম্মার ডাকের অপেক্ষায়। আম্মার হাতের রান্নার সেকি বাহারি স্বাদ! এই স্বাদ কোথাও আর পাই না। বড় ভাবি আমাদের পরিবারে আসার পর থেকে শুরু হয়েছে রসনাবিলাসের আরেক সম্ভার। পুরোনো স্বাদের সাথে নতুন স্বাদের সংযুক্তি। সারা দিনরাত পারিবারিক আড্ডা আর গল্পগুজবের সাথে খানিকক্ষণ পরপর চলে ভোজনরসিকদের খাদ্য গ্রহণ আর সুখের ঢেকুর তোলা। তাই তো অবধারিতভাবে ঈদের পরদিন থেকে আমার বড় দুই ভাইয়ের পেট খারাপ আর আমার পেটে জ্বালাপোড়া বলতে গেলে গা-সওয়া হয়ে গেছে।

পরিবারের সাথে ঈদ। পুরোনো অ্যালবাম থেকে নেওয়া।

 

দুপুরের খাবার গ্রহণের আগেই দেখব আমাদের বউ, বোন আর ছেলেমেয়েদের ঈদের সাজুগুজুর সাথে সাথে আমাদের আম্মা নতুন শাড়িতে তার মতো করে সেজে আমাদের সামনে হাজির হয়েছেন। এখনকার ব্যস্ততা সবাইকে দুপুরের আপ্যায়নের জন্য। ঈদের দু-তিন দিন ধরে তিনি তিন ছেলের উপহার দেওয়া শাড়িগুলোই পালাক্রমে আনন্দচিত্তে পড়েন। আব্বাও তাই। তবে তা কেবল ঘরের বাইরে বেরোনোর সময়। আমাদের, আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রশান্ত মুখগুলো দেখা যেন আম্মা আর আব্বার প্রধান চাওয়া। এ ক্ষেত্রে সব মা-বাবার গল্পই মোটামুটি একই রকম। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি ভাইবোন ছোটবেলা থেকে পরিণত বয়সে এসেও আমাদের আব্বা-আম্মার সাথে বন্ধুর মতো যেভাবে গল্পে মেতে উঠেছি; খাবার টেবিলে খাবার শেষে হাত না ধুয়েই যে লম্বা সময় ধরে আড্ডা দিয়েছি; কিংবা শীতের রাতে আম্মা-আব্বার বড় খাটটাতে সবাই লেপের ভেতর পা ঢুকিয়ে বসে সেই গভীর রাত পর্যন্ত নানা কথামালার যে ফুলঝুরিতে মাতোয়ারা হয়েছি; স্কুল, কলেজে পড়া অবস্থায়ও একসাথে সিনেমা হলে গিয়ে কত সুন্দর সুন্দর সব সামাজিক গল্পনির্ভর সিনেমা উপভোগ করেছি, পুরো পরিবারের একসাথে বিভিন্ন নাটক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়া; টিভির সামনে বসে ঈদের নাটক, আনন্দমেলা, সিনেমাসহ বিশেষ অনুষ্ঠানসমূহ একসাথে দেখা—এমনটা আমাদের আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী বা বন্ধুদের পরিবারে খুব একটা দেখা যেত না।

যখন বড় হয়ে সবার আলাদা আলাদা ঘর-সংসার হয়েছে, তখন ঢাকা থেকে বাড়িতে গেলেও আমাদের কারোরই বাইরের আড্ডা বা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার চেয়ে বাসায় একত্রে সময় কাটানোটাই সবচেয়ে বেশি আনন্দদায়ক মনে হয়েছে। আমাদের পাড়াপড়শি, আত্মীয়স্বজন, সকল ভাইবোনের বন্ধুবান্ধবও ছুটে আসত আমাদের বাড়িতে। এর প্রধান কারণ আমাদের আম্মা আর আব্বার অসাধারণ মানবিক ও বন্ধুবৎসল গুণাবলি। সীমিত সামর্থ্য দিয়েও যে অসাধারণ মেহমানদারি আর উৎসব উদ্‌যাপন করা যায়, এ ক্ষেত্রে আমাদের বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের কাছে তারা ছিলেন আদর্শ বাবা-মায়ের রোল মডেল।

জীবনচক্র তো আর সব সময় একভাবে চলে না। আমরাও তার ব্যতিক্রম নই। ২০০৭ সালের ১ সেপ্টেম্বরে আব্বার আকস্মিক প্রস্থান আমাদের জীবনে মারাত্মক ছন্দপতন এনে দেয়। অনেক কষ্ট করে যৎসামান্য বেতনের চাকরির বাইরেও সন্ধ্যাকালে আরও অতিরিক্ত নানা কাজ থেকে কিছুটা অর্থ সংযোজন করে সাত-সাতটা সন্তানের জন্য তিনি কী ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তখন না বুঝলেও এখন তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করি। তিনি চলে যাওয়ার পর প্রথম ঈদটা ছিল বেদনাবিধুর। চাকরির সুবাদে বড় ভাইয়ের পোস্টিং রিয়াদে হওয়ায়, আর পুলিশ কর্মকর্তা মেজ ভাইয়ের সরকারি দায়িত্ব পালনে উপর্যুপরি ঈদে ছুটি না পাওয়ায় একসাথে ঈদ করাটা কঠিন হয়ে ওঠে।

ধীরে ধীরে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন আমাদের আম্মা। তিনি ছিলেন সত্যিকার অর্থেই জীবনসংগ্রামী এক অনন্য নারী। কিছুদিনের মধ্যে তিনি একই সাথে আব্বার ভূমিকাও অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে পালন করতে শুরু করেন। আমরা আব্বা হারানোর কষ্টটাকে মেনে নিয়ে আবারও সেই পুরোনো ছন্দে ফিরে আসতে চেষ্টা করি আম্মার দৃঢ়চেতা মনোবলের কারণে, যা অব্যাহত থাকে আরও ১০ বছর।

মায়েদের কাছে সন্তানেরা কখনোই বড় হয় না। বড় হতেও নেই। তাদের কাছে সারা জীবন ছোট হয়ে থাকার যে আনন্দ আর ভালো লাগা, তা এখন প্রতিদিন টের পাই। আব্বার মতো আম্মারও ২০১৭ সালের ৬ মেতে হঠাৎ করেই এ ধরণি থেকে চলে যাওয়া এখনো দুঃস্বপ্নের মতোই মনে হয়। সবকিছু আজও সেভাবেই আছে, তবু যেন কিছুই নেই। হাজারো মানুষের মাঝে থেকেও নিজেকে বড় নিঃসঙ্গ মনে হয়। মনে হয় আমি যেন নিঃসঙ্গ একটি দেবদারু, আর সেখান থেকে শুকনো পাতার মতো ঝরছে শুধু কষ্ট আর কষ্ট। জীবনসংগ্রামী কিন্তু অসম্ভব ইতিবাচক মানুষ দুটোর অনুপস্থিতি মেনে নেওয়াটা সন্তান হিসেবে কতটা কষ্টের, তা কেবল আমাদের মতো হতভাগা সন্তানেরাই বুঝতে পারে। ঈদ এলে সেই যন্ত্রণা যেন আরও কয়েক ধাপ বেড়ে যায়। এ কারণে গত আট বছর ঈদ করতে আর বাড়ি যাইনি।

বুকের ভেতর গভীর যন্ত্রণা নিয়ে এবার দীর্ঘদিন পর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমাদের সেই বাড়িতে এসেছি। বড় ও সেজ বোনের বারবার অনুরোধ, এ বছর আর উপেক্ষা করা গেল না। আমার স্ত্রী-সন্তানদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টায় কারও কোনো কমতি নেই। আমাদের সবার অনুভূতিগুলোকে একটু জলরং দিয়ে রঙিন করার তাদের আপ্রাণ চেষ্টায় সত্যিই বিমোহিত হয়ে উঠেছি।

বাড়িতে ঢোকার পর থেকে পুরো বাসা, প্রতিটা রুম বারবার ঘুরে দেখছি। ছোট বোন নতুন আঙ্গিকে খুব সুন্দর করে বাসাটা পরিপাটি করে সাজিয়েছে। আগের অনেক পরিবর্তন। এত কিছুর পরও সারাক্ষণ চোখের সামনে ভেসে ওঠে আব্বা আর আম্মার সেই প্রাণচঞ্চল মুখ দুটো। মিস করছি রান্নাবান্না নিয়ে আম্মার অস্থির পায়চারি, আর আব্বার সেই গম্ভীরভরা মুচকি হাসির দৃশ্য। ছোট্ট বাড়িতে সব ভাইবোন আর বাচ্চাদের ঠাসাঠাসি করে থাকার সেই আনন্দও।

ঈদ একেবারেই সন্নিকটে। জানি না এবারের ঈদে সকালে কে ঘুম থেকে জাগাবে, ঈদগাহে যাওয়ার জন্য কেই-বা তাড়া দেবে? সেই একই ঈদগাহ মাঠে যাব ছেলেদের সাথে নিয়ে। ইচ্ছা আছে নামাজ শেষে ছুটে যাব ঈদগাহ-সংলগ্ন গোরস্থানে, যেখানে আমাদের আব্বা-আম্মা শায়িত আছেন হাজারো কবরবাসীর সাথে। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে দোয়া চাইব আমাদের কাছ থেকে শারীরিকভাবে হারিয়ে যাওয়া প্রাণপ্রিয় এই মানুষ দুটোর জন্য শুধু নয়, পৃথিবীর সকল মা-বাবার জন্যও। একই সাথে এই কবরস্থানে শায়িত সকলের জন্যও। মহান আল্লাহ যেন সহায় হোন। ঈদ মোবারক।