খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি – বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে আমন্ত্রণ পাঠানোর বিষয়ে বিএনপি ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “আমাদের কাছে দক্ষিণ এশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় লক্ষ্য এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও প্রভাব বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ প্রেরণ করা সময় সীমিত হলেও এটি দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। নতুন সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করতে চায়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এবং বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমসটেক) প্ল্যাটফর্মগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে চাই।”
হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন সরকার ন্যায্য ও সমন্বিত নীতিতে ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তিনি জানান, “দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক রূপান্তরমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
এর আগে, বিএনপির নির্বাচনী জয়ের পর নরেন্দ্র মোদি সরাসরি ফোন করে তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানান এবং একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এ ফোনালাপ দুই দেশের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলের সারসংক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব দেখানো হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নির্বাচন | জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ |
| বিজয়ী দল | বিএনপি (নিরঙ্কুশ বিজয়) |
| নির্বাচনী পরবর্তী উদ্যোগ | বিদেশি নেতাদের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ |
| দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক | বাংলাদেশ-ভারত, উন্নয়নের নতুন দিক নির্দেশনা |
| আঞ্চলিক সহযোগিতা | সার্ক, বিমসটেক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার বৃদ্ধি |
হুমায়ুন কবিরের মতে, এই ধরণের কূটনৈতিক উদ্যোগ শুধু দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে সার্ক এবং বিমসটেক-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে একটি সুসংগঠিত ও দায়িত্বশীল চিত্র তুলে ধরছে, যেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কূটনৈতিক বন্ধুত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।