খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিনক্ষণকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরকারি উচ্চপর্যায় ও বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার একাধিক সমন্বয় সভার পর তাঁর নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষ ‘কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট’ (প্রকাশ্য ও গোপন) পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মূলত রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিনটি সুনির্দিষ্ট জোনে ভাগ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং বিএনপির নিরাপত্তা ইউনিট ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ)-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিরাপত্তা ছকটি চূড়ান্ত করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জোনকে পৃথক গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে:
| জোনের নাম | নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও প্রবেশাধিকার | বিশেষ ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| রেড জোন | সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকা। | বিশেষ সিকিউরিটি কার্ড ছাড়া প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। |
| ইয়েলো জোন | মধ্যম সারির নিরাপত্তা বলয়। | শুধুমাত্র নির্ধারিত কার্ডধারী ব্যক্তিবর্গ ও কর্মকর্তারা থাকতে পারবেন। |
| হোয়াইট জোন | সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত এলাকা। | ব্যাপক তল্লাশি ও সিসিটিভি নজরদারির আওতায় থাকবে। |
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এসএন নজরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, তারেক রহমানের জন্য পোশাকি পুলিশের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের গোয়েন্দা মোতায়েন থাকবে। এই দ্বিমুখী ব্যবস্থাকেই কারিগরি ভাষায় ‘কভার্ট অ্যান্ড ওভার্ট’ বলা হচ্ছে। তারেক রহমানের বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত যাত্রাপথে প্রায় ২ হাজার পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। যদিও তাকে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ (SSF) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রটোকল নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু করে উত্তরা, এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত সম্পূর্ণ রুটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন এবং তারেক রহমানের বাসভবন পাশাপাশি হওয়ায় ওই এলাকাকে ‘হাই-সিকিউরিটি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
চেকপোস্ট বৃদ্ধি: গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় সাধারণত ৯টি চেকপোস্ট সচল থাকলেও তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে এর সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
বিশেষ নজরদারি: ২৫ ডিসেম্বর প্রতিটি থানা এলাকায় রুটজুড়ে চেকপোস্ট ও বিশেষ এসকর্ট পার্টি মোতায়েন থাকবে।
সমন্বিত ইউনিট: ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার রওনক আলম জানিয়েছেন, ডিবির টিম, সোয়াত এবং ডগ স্কোয়াড এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করছে।
তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিসের মধ্যবর্তী চলাচলের পথকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষ্য হলো, কোনো প্রকার জনসমাগম বা উচ্ছ্বাস যাতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং চূড়ান্ত লিখিত আদেশ জারির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।