খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তান সরকার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। বিষয়টি সমাধান করতে ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা গতকাল পাকিস্তান সফরে যান। তিনি সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পিসিবি ও আইসিসির মধ্যে রোববার রাতে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য পাকিস্তান তিনটি শর্ত উত্থাপন করেছে বলে জানা গেছে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি এবং হিন্দুস্থান টাইমস টেলিকম এশিয়া স্পোর্টের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
পাকিস্তানের শর্তগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
| শর্ত | বিস্তারিত | লক্ষ্য/কারণ |
|---|---|---|
| অর্থনৈতিক | আইসিসি থেকে লভ্যাংশ বৃদ্ধি | পাকিস্তান আরও বেশি অর্থ উপার্জন চাইছে |
| দ্বিপক্ষীয় সিরিজ | ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনরায় চালু | ২০১৩ সালের পর দুই দেশ কোনো সিরিজ খেলেনি |
| আচরণ সংক্রান্ত | ভারত-পাকিস্তান খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দনের নিয়ম প্রতিস্থাপন | ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারতের ক্রিকেটাররা পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলাননি, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে |
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক-দুই দিনের মধ্যে দেখা করবেন বলে জিও নিউজ জানিয়েছে। এরপর আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-মহিলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
আনুমানিক আইসিসি ও পিসিবি সূত্র জানাচ্ছে, পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বয়কট থেকে সরে আসতে তিনটি শর্তের বাইরে আরও বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক তিনটি শর্তও উত্থাপন করেছে। সেই শর্তগুলো হলো:
১. বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ প্রদান,
২. বাংলাদেশকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ফি প্রদান,
৩. ভবিষ্যতে আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব নিশ্চিত করা।
উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল। তবে আইসিসি তা গ্রহণ না করে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। পাকিস্তান সরকারের ভারত-ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা ও এ বিষয়ে আইসিসির হস্তক্ষেপকে এই প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।
টেলিকম এশিয়া স্পোর্টের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পিসিবি বৈঠকে বলেছে, ‘আমরা চাই পাকিস্তানের বাৎসরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি হোক, ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনরায় শুরু হোক এবং দুই দেশের ক্রিকেটাররা মাঠে করমর্দন শুরু করুক।’
এই আলোচনার ফলে বিশ্ব ক্রিকেট মহলে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রভাব, অর্থনৈতিক শর্ত এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।