খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 9শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আজ রবিবার (২৪ আগস্ট) দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছেন। বৈঠকে সম্পর্ক স্বাভাবিকরণে জোর দিতে পারে ঢাকা। অন্যদিকে, ইসলাবাদ সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার বার্তা দিতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই মন্ত্রী শুরুতে একান্তে এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তৌহিদ-দারের বৈঠকে ব্যবসা, বিনিয়োগ, সংযুক্তি, কৃষি, নানা পর্যায়ে দুই দেশের লোকজনের চলাচল সুগম করাসহ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় আলোচনায় থাকবে।
পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বোঝাপড়া ও অভিন্ন স্বার্থে জোর দেবে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের সম্পর্ক যেখানে এসেছে, তা এগিয়ে নিতে হলে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সুরাহা জরুরি।
দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক অমীমাংসিত তিন ঐতিহাসিক ইস্যুকে বাদ দিয়ে হবে না। অমীমাংসিত বিষয়গুলো হলো একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন ও অবিভাজিত সম্পদে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা প্রদান।
বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি। এ ছাড়া, দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের মধ্যে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইপিআরআই) মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা ও চুক্তি সইয়ের কথা রয়েছে।
আজ রবিবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ইসহাক দার।
দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এক যুগ পর এটি ছিল পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম ঢাকা সফর। সফরের শুরুর দিনে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেন ইসহাক দার। শুরুর দিনে তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
গত ২৭ এপ্রিল ইসহাক দারের ঢাকা আসার কথা ছিল। তবে ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিলে দারের সফর স্থগিত করে ইসলামাবাদ।
প্রায় দেড় যুগ পর স্থবির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে বেশ আগ্রহী ইসলামাবাদ। তারই অংশ হিসেবে দীর্ঘ ১৫ বছর পর গত এপ্রিলে ঢাকায় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক করে বাংলাদেশ-পাকিস্তান, বৈঠকে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ।
বাংলাদেশের কূটনীতিকরা বলছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আন্তরিক বাংলাদেশ। তবে, অমীমাংসিত ইস্যুগুলো ভুলে যায়নি ঢাকা। বাংলাদেশ মনে করে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, যুদ্ধের জন্য ক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা, ১৯৭০ সালে অবিভক্ত পাকিস্তানের ঘূর্ণিঝড়ের সময় দেওয়া বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধের মতো বিষয়গুলোর সুরাহা হওয়া জরুরি।
দারের সফরে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো ঢাকার পক্ষ থেকে তোলা হবে কি না– জানতে চাইলে এক কূটনীতিক বলেন, এগুলো ইস্যুর অংশ। কোনটা তুলবে, কোনটা তুলবে না সেটা নিয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। মোটা দাগে যা যা আছে সব থাকবে। এটা এত আগে থেকে বলা কঠিন, এখনো অনেক সময় বাকি।
খবরওয়ালা/এমইউ