খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৮ মে ২০২৫
দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত বৈঠকে অংশ নিতে চীন সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
সোমবার (২০ মে) তিনি দুই দিনের সরকারি সফরে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। সফরটি চলবে ২১ মে পর্যন্ত।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসহাক দার ও চীনা নেতাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে গভীর আলোচনা হবে।
এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে অংশ নেবেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুততাকি। তিনি আগামী ২০ মে চীনে পৌঁছাবেন। এই বৈঠকে চীন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করবেন।
গত মাসে ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন ভারতীয় পর্যটক নিহত হন। ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
ভারত সামরিক অভিযান চালায় ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে। পাল্টা জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ানুম-মারসুস’ পরিচালনা করে। পাকিস্তানের দাবি, এই সংঘাতে তারা ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান (তিনটি রাফালসহ) ও বহু ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই সংঘাতে ১৩ জন সামরিক সদস্যসহ ৫৩ জন নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ মে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে চীন প্রকাশ্যে পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন জানায়। বেইজিংয়ে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত পাকিস্তানকে ‘আয়রন ব্রাদার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “চ্যালেঞ্জপূর্ণ সময়ে চীন সবসময় পাকিস্তানের পাশে থেকেছে।” চীন দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের নেতৃত্ব ও প্রভাব জোরদারে এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে কাজে লাগাতে চায়।
ইসহাক দারের এই সফর শুধু পাকিস্তান-চীন সম্পর্ক দৃঢ় করার লক্ষ্যে নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্থিতিশীলতায় চীনের নেতৃত্বে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামো গঠনের প্রয়াস হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পরিবেশ ধরে রাখতে চায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতি কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
চীনে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ও কৌশলগত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।