খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় প্রবেশ করে ওসি ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আরও দুই জামায়াত নেতা গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
পুলিশ জানিয়েছে, তারা মামলার ১ ও ৪নং আসামি। এ নিয়ে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচজন গ্রেফতার হয়েছেন।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সারোয়ারে আলম জানান, মামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন। শনিবার রাতের বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। রোববার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার রাতে, যখন পৌরসভার মালিকানাধীন কালিবাড়ি বাজারে একটি দোকানে তালা লাগানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে সমস্যার সৃষ্টি হয়। উপজেলা যুব জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক রাত সাড়ে ৯টার দিকে থানায় প্রবেশ করেন। তারা থানার ওসি সারোয়ারে আলমকে দোকানটি তালাবদ্ধ করতে বলেন। ওসি রাজি না হলে পলাশ ও তার অনুসারীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং হামলা চালান।
ফলে আহত হন ওসিসহ এসআইসহ মোট ৮ পুলিশ সদস্য। পরে এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় ৮ জামায়াত নেতাসহ অজ্ঞানামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃতদের পাওয়া তথ্য ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে ঘটনার আরও পেছনের জটিলতা উদঘাটন করা হচ্ছে। অভিযান চালানো দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাজ করেছে এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযানটি সম্পন্ন হয়েছে।
নিচের টেবিলে হামলার সঙ্গে জড়িত গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতাদের তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| নাম | বয়স | পদবি/প্রতিষ্ঠান | গ্রেফতার এলাকা | মামলার আসামি নং |
|---|---|---|---|---|
| পলাশ আহমেদ | ৩৫ | বাইতুল মাল সম্পাদক, যুব জামায়াত | দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | ১ |
| গোলজার রহমান | ৩৪ | জামায়াত নেতা | দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় | ৪ |
| মাহমুদুল হাসান পলাশ | ৩৬ | উপজেলা যুব জামায়াত নেতা | কালিবাড়ি বাজার | ২ |
এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আরও সহায়তাকারী সদস্যদের শনাক্ত করার জন্য জোরদার তল্লাশি চলছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও গোয়েন্দা দল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।