থামছে না অস্ত্র–বিস্ফোরকের পাচার, বাড়ছে রক্তপাতের ঝুঁকি

সিলেট বিভাগে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান থামছে না—এমন উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পর্যালোচনায়। জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট মহল, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গত সপ্তাহে সেনাপ্রধানের উপস্থিতিতে, বিজিবির সেক্টর কমান্ডারদের সঙ্গে সমন্বয় সভা এবং জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে নির্বাচনি সহিংসতা প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সিলেট সফর করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমনের নির্দেশনা দেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির চৌকি বাড়ানো হয়েছে, পাশাপাশি গোয়েন্দা সোর্স সক্রিয় করা হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব নগর ও গ্রামাঞ্চলে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে। নদীপথ, আন্তঃজেলা সড়ক এবং শহরের প্রবেশপথে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডগ স্কোয়াড ও সাঁজোয়া যান নিয়ে বিজিবির মহড়া নগরবাসীর মধ্যে একদিকে নিরাপত্তার বার্তা দিলেও অন্যদিকে ঝুঁকির বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে সিলেট বিভাগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে, যা পরিস্থিতির গভীরতা নির্দেশ করে। নিচের সারণিতে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—

উদ্ধারকৃত সামগ্রী পরিমাণ
দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ৩৮টি
এয়ারগান ৭৫টি
লাইভ রাউন্ড গুলি ১০৪ রাউন্ড
কার্তুজ ও প্যালেট ২,১৫০+ পিস
ম্যাগাজিন ৫টি
উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক পাউডার ও জেল ৯,৬২৫ গ্রাম ও ৯.৬ কেজি
ডেটোনেটর (ইলেকট্রিক ও নন-ইলেকট্রিক) ৫৪টি
সাউন্ড গ্রেনেড ১টি
পেট্রোলবোমা ৫টি

এদিকে সিলেট বিভাগের মোট ২ হাজার ৬৪১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৬২টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দিন-রাত টহল, বিশেষ অভিযান, ঝুঁকি মানচিত্র হালনাগাদ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ঘোষণা করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ স্পষ্ট। বিএনপির নির্বাচন সমন্বয়ক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার এই নির্বাচন কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলার অভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। অপরদিকে জামায়াতের মহানগর আমির মুহম্মদ ফখরুল ইসলাম দৃশ্যমান অভিযানের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী আশ্বস্ত করে জানান, নির্বাচন নিরাপদ রাখতে বডি ওর্ন ক্যামেরা, ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও প্রশাসনের সমন্বিত ভাষ্য—সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে, নাশকতার যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ভোটাররা নির্বিঘ্নেই কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।