আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৭ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলে গবেষণার জন্য দানকৃত মরদেহ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার দেওয়া রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মরদেহগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক মর্গ ব্যবস্থাপক সেড্রিক লজ তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। এ ঘটনায় ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল, যেখানে তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
ম্যাসাচুসেটসের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলে ব্যবহৃত মরদেহগুলো কেটে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি করে বিক্রি করতেন সেড্রিক লজ। তার এই ‘ভয়াবহ কাজের’ জন্য ভুক্তভোগী পরিবারগুলো হার্ভার্ডকেও দায়ী করেছিলেন। তবে নিম্ন আদালতের এক বিচারক মামলাগুলো খারিজ করেছিলেন।
বিচারপতি স্কট কাফকার রায়ে উল্লেখ করেছেন, বাদীরা অভিযোগ করেছেন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় মরদেহগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়েছে। মরদেহগুলোর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা ভয়ঙ্কর এবং অসম্মানজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবহেলার সুযোগে সেড্রিক লজ বহু বছর এ অপকর্ম করেছেন।
কাফকার রায়ে লেখা হয়েছে, ‘দানকৃত মরদেহগুলোকে সম্মানজনকভাবে সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে সামলানোর আইনি দায়িত্ব ছিল হার্ভার্ডের। কিন্তু তারা মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। হার্ভার্ড নিজেই এ দায় স্বীকার করেছে।’
এ ঘটনায় হার্ভার্ডের মরণোত্তর দেহদান কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নিয়ে দায়ের করা মামলার কার্যক্রমও নতুনভাবে শুরু হয়েছে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এক বিবৃতিতে লজের এই কর্মকাণ্ডকে জঘন্য বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবোধের পরিপন্থী।
লজ গত মে মাসে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং এখন রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বিচারকরা জানিয়েছেন, সেড্রিক লজ ২০১৮ সালে মর্গ থেকে মরদেহ চুরি শুরু করেন। তিনি মরদেহের মাথা, মস্তিষ্ক, ত্বক ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি করে বোস্টনের হার্ভার্ড মর্গ থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের গফসটাউনে নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতেন এবং স্ত্রীর সহায়তায় সেগুলো বিক্রি করতেন।
মোট ১২টি মামলায় ৪৭ জন অভিযোগকারী হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় বছরের পর বছর ধরে লজের কর্মকাণ্ড উপেক্ষা করেছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন