খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৪ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নতুন দিল্লি: আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমীর খান মুত্তাকি রবিবার নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি প্রেস কনফারেন্সে বিশেষভাবে মহিলা সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটি সেই ঘটনার পর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে শুক্রবার একই স্থানে আফগান দূতাবাসে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে শুধুমাত্র পুরুষ সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং নারী সাংবাদিকদের বাইরে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবারের ঘটনায় দেশের গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ইন্ডিয়ান উমেন প্রেস কর্পস (IWPC) এবং এডিটর্স গিল্ড অব ইন্ডিয়া যৌথ বিবৃতিতে এটিকে ‘অমানবিক ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যমূলক’ বলে উল্লেখ করে। তারা বলেন, “ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক বিশেষাধিকার প্রার্থনা করা যেতে পারে, কিন্তু ভারতীয় মাটিতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সহ্য করা হবে না।”
এই ঘটনা আবারও তালেবান শাসনের ম হিলাদের অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। আফগানিস্তানে তালেবানের শাসনে মহিলাদের শিক্ষার অধিকার, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ মারাত্মকভাবে সীমিত। জাতিসংঘ নারী সংস্থার ২০২৪ সালের আফগানিস্তানের জেন্ডার ইনডেস্ক অনুযায়ি অনুযায়ী, তালেবান ৭০টিরও বেশি ডিক্রি ও নির্দেশিকা জারি করেছে, যা মহিলাদের জনজীবন থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টার পরিচায়ক।
রবিবারের প্রেস কনফারেন্সে মুত্তাকি মহিলা সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানান এবং সরাসরি প্রশ্নের মুখোমুখি হন। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন: “যখন মেয়েরা ইরান, সৌদি আরব, সিরিয়া এমনকি দেওবন্দেও পড়াশোনা করে, তাহলে আফগানিস্তানে কেন নয়?”
একইসঙ্গে সাংবাদিকরা দানিশ সিদ্দিকীর নৃশংস হত্যার বিষয়ে জবাবও দাবি করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের সাংবাদিকতা হচ্ছে ক্ষমতার প্রতি প্রশ্ন তোলা ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রকৃত উদাহরণ।
খবরওয়ালা/এমএজেড