খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের মরকেল পরিবার আবারও আলোচনায়। এই পরিবারের বাবা আলবার্ট মরকেল ছিলেন সাবেক পেসার, যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেটে খ্যাতি পেয়েছিলেন। বাবার ধারাবাহিকতায় তিন ছেলে—আলবি মরকেল, ম্যালান মরকেল ও মরনে মরকেল—ও ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। যদিও বড় ছেলেকে অনেকেই অলরাউন্ডারের মতো বড় মাপের প্রতিভা হিসেবে দেখতেন, তার খেলায় যেটুকু ছিল, সেটিও অনেকের জন্য স্বপ্নের মতো। মেজ ছেলে ছিলেন ফাস্ট বোলিংয়ের আগুন, অনূর্ধ্ব–১৯ দলের হয়ে খেলেছেন, আর ছোট ছেলে মরনে মরকেল দক্ষিণ আফ্রিকার পেস কিংবদন্তি।
শৈশবে তিন ভাই ছোট্ট মাঠে ক্রিকেট খেলত। মারিয়ানার কাছে সেই সময়ের খুনসুটির দৃশ্য অচেনা নয়। তবে এখন, সময় এসেছে সেই শৈশবের খেলার মতো হালকা মুহূর্তের বাইরে, যেখানে মা মারিয়ানার মন ভেঙে যাচ্ছে—কারও পক্ষ নিতে হবে। আগামীকাল আহমেদাবাদে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচে মরনে মরকেল ভারতের বোলিং কোচ হিসেবে থাকবেন, আর আলবি মরকেল দক্ষিণ আফ্রিকার ‘স্পেশালিস্ট কনসালট্যান্ট’ হিসেবে।
মারিয়ানার জন্য এটি মানসিক চাপের মুহূর্ত। দুই সন্তানেরই মঙ্গল চাওয়া সম্ভব, কিন্তু ক্রিকেটে একজনকে হারতে হবে। আলবি এ পরিস্থিতিকে হালকা রসিকতার সঙ্গে দেখিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে, বলেছেন, “আমাদের মধ্যে কথা হয় না। আমাদের মা সম্ভবত আমাদের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। তিনি জানেন না কাকে সমর্থন করবেন—ভারত না দক্ষিণ আফ্রিকা।”
নিচের টেবিলে তিন ভাইয়ের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ার তুলে ধরা হলো:
| ছেলে | দলে ভূমিকা | আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| আলবি মরকেল | স্পেশালিস্ট কনসালট্যান্ট (দক্ষিণ আফ্রিকা) | ১টি টেস্ট, ৫৮ ওয়ানডে, ৫০ টি–টুয়েন্টি | বিগ হিটিং, ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে কাজ |
| ম্যালান মরকেল | ঘরোয়া ও অনূর্ধ্ব–১৯ দল | অনূর্ধ্ব–১৯ পর্যন্ত | ফাস্ট বোলিং, তরুণ প্রতিভা |
| মরনে মরকেল | বোলিং কোচ (ভারত) | ৮৬ টেস্ট, ১১৭ ওয়ানডে, ৪৪ টি–টুয়েন্টি | ক্ল্যাসিক ফাস্ট বোলার, ৩০৯ উইকেট টেস্টে |
আলবির মতে, ‘স্পেশালিস্ট কনসালট্যান্ট’ মূলত ব্যাটিং, ফিল্ডিং ও বোলিংয়ে সহায়তা করা, লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিং ও সুইং নিয়ে কাজ করা। মরনে কোচিং দায়িত্ব পালন করেছেন পাকিস্তান, লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস ও ভারতীয় দলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যান্য ভাইদের মতো আলবি-মরনের গল্পও অনন্য। চ্যাপেল, ওয়াহ, অমরনাথ বা কারেনদের ক্ষেত্রে ভাইরা একই দলে খেলেছেন। কিন্তু মরকেল ভাইরা এখন মুখোমুখি—একই ম্যাচের বিভিন্ন শিবিরে। শৈশবের ক্রিকেট খুনসুটি থেকে আন্তর্জাতিক কোচিং—মারিয়ানার জীবনে এক বিশেষ দ্বিধার মুহূর্ত। দুই সন্তানের জন্য মায়ের হৃদয় দুটো শিবিরের মাঝে বিভক্ত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্রীড়া নিয়মই শেষ কথা বলে।
এই ম্যাচ শুধু দুই দলের মুখোমুখি নয়, এটি মারিয়ানার জন্য একটি মানসিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে—কোন ছেলের জয় উদযাপন করবেন, তা ঠিক করতে পারছেন না মা।