খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 30শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৩ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত কাছারিবাড়ি দুই দিন দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকার পর আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কাছাছিবাড়ির অডিটরিয়ামে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনপির এক নেতাসহ আরো ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে।
শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কাছারিবাড়ি খুলে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৮ জুন অডিটোরিয়ামে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১১ জুন কাছারিবাড়িতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ অনিদির্ষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
কাছারিবাড়ি দর্শনার্থীদের খুলে দিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাছারিবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর কোনো পরিকল্পিত ঘটনা ছিল না। কোনো মৌলবাদ বা কোনো রাজনৈতিক দলের কারণে এ ঘটনা ঘটেনি। এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আজ থেকে কাছারিবাড়ি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো। আমরা বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।’
এ প্রসঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) শেখ কামাল হোসেন বলেন, ‘হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত কোনো নিদর্শন নষ্ট হয়নি। কবিগুরুর সম্মান বা মর্যাদাহানিকর কিছু ঘটেনি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। খুব শিগগিরই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি হবে। ‘প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে সার্বিক নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই। ইতিমধ্যে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা গ্রেপ্তার হচ্ছে।’
এদিকে, অডিটোরিয়ামে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা বিএনপির এক নেতাসহ আরো ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী ও থানা পুলিশ। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ জনে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য শাহজাদপুর পৌর এলাকা রূপপুর মহল্লার বাসিন্দা অধ্যাপক আবু শামিম (৬০), রূপপুর নতুনপাড়ার শাহ আলমের দুই ছেলে রিমন হোসেন (২৫) সজিব হোসেন (২২), পাঠানপাড়ার শুকুর মাহমুদের ছেলে আশিকুর রহমান আরমান (২১), একই মহল্লার আব্দুল জব্বারের ছেলে তানভীর হাসান অর্ক (২২) ও চুনিয়াখালীপাড়ার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ছেলে জুবায়ের হোসেন (২৪)। এদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার প্রধান সেনা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত থেকে শুক্রবার (১৩ জুন) ভোর পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযানে কাছারিবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ প্রসঙ্গে শাহজাদপুর থানার ওসি আসলাম আলী জানান, বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতভর সেনাবাহিনীর অভিযানে ৩ জন এবং পুলিশের অভিযানে ৩ জন মিলে মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে ১২ জুন আরো ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, ৮ জুন শাহনেওয়াজ নামে একজন দর্শনার্থী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কাছারিবাড়ি পরিদর্শনে যান। সেখানে মটরসাইকেল পার্কিং ফি নিয়ে গেটের এক কর্মচারীর সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দর্শনার্থীকে অফিস কক্ষে আটকে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ১০ জুন উপজেলা সদরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করা হয়। এরপর কাছারীবাড়ির পাশ দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় একদল উত্তেজিত জনতা কাছারিবাড়ির অডিটরিয়ামে ভাঙচুর চালায় এবং স্টাফদের মারধর করে। এরপর ১১ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাছারিবাড়িতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন দুপুরে মন্ত্রণালয়ের ৩ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই দিনে কাছারিবাড়ির কাস্টোডিয়ান হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআর