খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আবদুস সালাম ব্যাপারীকে তার পদ থেকে অপসারণ করেছে সরকার। গত রোববার (৮ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাকে অপসারণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয় এবং তার পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। বিতর্কিত নিয়োগ ও পূর্ববর্তী কর্মজীবনের দুর্নীতির অভিযোগের বোঝা মাথায় নিয়ে অবশেষে তাকে ঢাকা ওয়াসা থেকে বিদায় নিতে হলো।
প্রকৌশলী আবদুস সালাম ব্যাপারীর নিয়োগ শুরু থেকেই ছিল চরম বিতর্কিত। গত বছরের ১১ নভেম্বর তাকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। মজার ব্যাপার হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একদম শেষ সময়ে এসে এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার শীর্ষ পদে বসানো নিয়ে খোদ প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ছিল। এর আগে তিনি ঢাকা ওয়াসার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় না রেখেই তাকে তড়িঘড়ি করে এই আসনে বসানো হয়েছিল।
আবদুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিগত কয়েক বছরে ঢাকা ওয়াসার তিনটি মেগা প্রকল্পের সাথে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। এই প্রকল্পগুলোর আর্থিক সংশ্লেষ সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। নিচে তার সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
আবদুস সালাম সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রকল্প ও দুর্নীতির তথ্য
| প্রকল্পের ধরণ | আনুমানিক ব্যয় (কোটি টাকা) | অভিযোগের প্রকৃতি | বর্তমান অবস্থা |
| মেগা প্রকল্প-১ (পানি শোধন) | ২০০০ কোটি | দরপত্রে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী | বিভাগীয় তদন্তাধীন |
| মেগা প্রকল্প-২ (পয়ঃনিষ্কাশন) | ১৮০০ কোটি | অর্থ আত্মসাৎ ও ভুয়া ভাউচার | অডিট আপত্তি বিদ্যমান |
| মেগা প্রকল্প-৩ (বিতরণ লাইন) | ১২০০ কোটি | পরামর্শক ফি-তে অতিরিক্ত ব্যয় | বিভাগীয় মামলা চলমান |
বিগত বছরগুলোতে এই প্রকল্পগুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণে ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাকে পদোন্নতি দিয়ে এমডি পদে আসীন করা ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।
ওয়াসার মতো একটি সেবামূলক সংস্থার শীর্ষ পদে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বসানোর ফলে সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং স্বচ্ছতা ব্যাহত হচ্ছিল। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সক্রিয় হয়। শেষ পর্যন্ত রোববার বিকেলে তার পদত্যাগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রকৌশলী আবদুস সালামের এই বিদায়কে ওয়াসা সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুধু অপসারণই যথেষ্ট নয়; বরং পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পগুলোতে যে নয়-ছয় হয়েছে, তার জন্য তাকে আইনের আওতায় আনা জরুরি। বর্তমান সরকার ঢাকা ওয়াসাকে একটি দুর্নীতিমুক্ত এবং গ্রাহকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার যে অঙ্গীকার করেছে, এই পদক্ষেপ তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।