খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৬ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ‘মানুষকে যদি বলা হয়—তুমি পোলাও-কোরমা চাও, নাকি ভোট দিতে চাও? তখন বাংলাদেশের মানুষ বলবে—আমি ভোট দিতে চাই। না খেয়ে থাকলেও অসুবিধা নেই। ভোট এই জাতির রক্তের ভেতরে মিশে আছে।’
সোমবার (১৬ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রতিনিধি দলে ড. আবদুল মঈন খান ছাড়াও ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
বৈঠক শেষে ড. মঈন খান বলেন, ‘সারাহ কুকের সঙ্গে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা—বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানতে চেয়েছেন আমরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চাই।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চায়। নতুন প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোট দিতে পারেনি, তারা ভোটের অপেক্ষায় আছে। আমি নিজে গ্রামে গিয়েছিলাম—মানুষের চোখে ভোট নিয়ে যে উচ্ছ্বাস দেখেছি, তা গোটা দেশেরই প্রতিফলন। আমাদের কাছে ভোট একটা উৎসব। যেমন নববর্ষে আমরা ১৪ এপ্রিল উৎসব করি, তেমনি ভোটের দিনটিও মানুষের জন্য উৎসব। সবাই উন্মুখ হয়ে আছে, কখন ভোট দেবে, কখন নিজের অধিকার প্রয়োগ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি, ভবিষ্যতে যদি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়, যেটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে।’
নির্বাচনের তারিখ প্রসঙ্গে কোনো দাবি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এগুলো দাবি নয়, বরং বাংলাদেশকে দাবি-প্রতি-দাবির বৃত্ত থেকে বের হতে হবে। আমাদের দরকার পারস্পরিক সমঝোতার মানসিকতা। একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করে নয়, বরং সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ জুন একটি মিটিং হয়েছে। আমি ড. ইউনূস সাহেবের সঙ্গে দেখা করে বলেছি, আপনি শুধু নির্বাচনের দিন ঘোষণা দেন—দেখবেন, দেশের সব সংকট একদিনেই শেষ হয়ে যাবে। এরপর থেকেই একটা গুণগত পরিবর্তন এসেছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। মানুষ এখন আশাবাদী, মনে করছে দেশে গণতন্ত্র ফিরতে যাচ্ছে। গণতন্ত্রই তো আমাদের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল।’
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা প্রসঙ্গে মঈন খান বলেন, ‘আপনারাই তো বলেন প্রধানমন্ত্রী অতিমাত্রায় শক্তিশালী। কেন? কারণ জবাবদিহিতা নেই। যদি সত্যিকারের জবাবদিহিতা থাকতো, তাহলে এমনটা হতো না। ক্ষমতা সীমিত থাকতো।’
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই অস্থিরতার সূচনা গাজা উপত্যকা থেকে। আমরা আলোচনা করেছি, বিশ্ব এখন অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে—যা কারও জন্যই স্বাস্থ্যকর নয়। এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। উপকার পায় কারা? যারা যুদ্ধ সামগ্রী তৈরি করে, অস্ত্র বিক্রি করে। তারা যুদ্ধ চায়, কারণ এতে তাদের ব্যবসা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়ে।’
খবরওয়ালা/আরডি