খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশ পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি এক গম্ভীর সতর্কতা জানিয়েছে যে, দেশের সমস্ত পেট্রল পাম্প যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মূলত জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) রাতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে পেট্রল পাম্পগুলোর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। দৈনিক সরবরাহকৃত তেলের পরিমাণ ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। এর ফলে, বহু মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালক দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে পাম্পের কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় নিরবিচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালনের কারণে শারীরিক ও মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিরাপত্তার অভাবে পাম্পগুলোতে ক্রেতাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসনের তদারকি থাকা সত্ত্বেও পাম্পগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এতে অপ্রত্যাশিত চাপ ও সংঘর্ষের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংগঠনটি কিছু উদাহরণও দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ঈদের আগের দিন এক পাম্পে ছিল সাড়ে ১০,৫০০ লিটার পেট্রল এবং সমপরিমাণ অকটেন, আরেকটি পাম্পে প্রায় ৮,০০০ লিটার তেল সংরক্ষিত ছিল। স্বাভাবিকভাবে এই মজুদ কয়েকদিন চলার কথা থাকলেও, অতিরিক্ত চাপ এবং বিশৃঙ্খলার কারণে তা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে।
পাম্পে তেল কেনার নিয়মিত চক্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন একাধিকবার তেল নিয়ে যাওয়ার কারণে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। কিছু মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন। ফলে পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে এবং রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধভাবে তেল নিতে আসার ঘটনা ঘটছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের একটি পাম্পের উদাহরণ তুলে ধরে সংগঠনটি জানিয়েছে, সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে তেল শেষ করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের পরিস্থিতি দেশজুড়ে ঘটে চলেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তা ক্রমেই ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে।
পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমানে জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তার অভাব একত্রিত হয়ে পাম্প পরিচালনাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন করছে। ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে, পাম্পগুলোকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হতে হবে।
নীচের টেবিলে কয়েকটি পাম্পে ঈদের আগের দিনের তেল মজুদের তথ্য তুলে ধরা হলো:
| পাম্পের নাম | পেট্রল (লিটার) | অকটেন (লিটার) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| পাম্প A | 10,500 | 10,500 | দ্রুত শেষ হয়ে গেছে |
| পাম্প B | 8,000 | 8,000 | ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে |
সংগঠনটি বলেছে, এমন পরিস্থিতিতে পাম্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে, তেল লিফটিং বন্ধ ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। পাম্প পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে, দেশের জ্বালানি বিপণন ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
বর্তমানে পাম্প মালিকরা জনগণের তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নানা জটিলতায় পড়ছেন, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।