খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত কয়েক দিন ধরে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে নদীগুলোর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে।এর প্রভাবে বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই নদীর তিন স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে যে বৃষ্টিপাত কমে গেলে জলস্তরও কমে আসবে।
কেন্দ্রের বুধবার সন্ধ্যার তথ্য অনুযায়ী, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তিনটি স্টেশনে জলস্তর বিপদসীমার উপরে রয়েছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর কানাইঘাট (সিলেট) স্টেশনে জল বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ (সিলেট) স্টেশনে ৬৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
নদীগুলোর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ভেতরে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে প্রবল থেকে অতি-প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় (১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত) বাংলাদেশের রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয়, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, বিহার ও ত্রিপুরা প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর জলস্তর আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থেকে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে এর পরবর্তী দুই দিনে জলস্তর কমতে পারে।
রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর জলস্তর আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে তিস্তা ও দুধকুমার নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং ধরলা নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। তবে জলস্তর দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে হ্রাস পেতে পারে।
সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, ভুগাই, কংস ও জিঞ্জিরাম নদীর জলস্তর আগামী একদিনে বাড়তে পারে এবং সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। তবে দ্বিতীয় দিনে জলস্তর স্থির এবং তৃতীয় দিনে কমতে পারে।
প্রধান অববাহিকা: ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর জলস্তর আগামী পাঁচ দিন বাড়লেও বিপদসীমার নিচে থাকবে। গঙ্গার জলস্তর দুই দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী তিন দিন হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে, পদ্মা নদীর জলস্তর আগামী পাঁচ দিন বাড়লেও বিপদসীমার নিচে থাকবে।
অন্যান্য অববাহিকা: রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মহানন্দা, করতোয়া, ঘাঘট, আত্রাই, যমুনেশ্বরী, আপার আত্রাই, আপার করতোয়া, পুনর্ভবা ও টাঙ্গন নদীর জলস্তর আগামী একদিন বাড়তে পারে এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে স্থির থাকতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন