খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ৮ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়েছিল। তবে তিন দিনেও সেই টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারের হাতে না পৌঁছায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শিশু শিক্ষার্থীটি প্রাইভেট পড়া শেষে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে উপজেলার একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে গুলজার হোসেন (৪৮) নামের এক ব্যক্তি তাকে কোলে তুলে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং গুলজার পালিয়ে যান।
সেদিন রাতেই উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ সরদারের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে সালিস বসে। সেখানে গুলজারকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ঘটনাটি থানা-পুলিশের বাইরে মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সমপরিমাণ টাকার একটি চেক আশরাফ সরদারের হাতে দেন, যা পরে বিএনপি নেতা নুর মোহাম্মদের কাছে জমা রাখা হয়। তিন দিনেও চেক বা টাকা ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে না পৌঁছায় তারা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
শিশুটির মা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা থানায় যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতারা যেতে দেননি। রাতে সালিসে বসে গুলজারকে জরিমানা করে চেক নেন। কিন্তু তিন দিনেও চেক বা টাকা পাইনি।’
আশরাফ সরদার বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের কথা মেনে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করেছি। জটিলতা আছে জানলে সালিস করতাম না। চেক যাদের পাওয়ার কথা, তাদের কাছেই দেওয়া হয়েছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে গুলজার হোসেন দাবি করেন, ‘মেয়েটি কাদায় পড়ে গেলে তাকে তুলতে গেলে সে চিৎকার দেয়। এরপর লোকজন সন্দেহ করে মিথ্যা অভিযোগ তোলে। নিরুপায় হয়ে নেতাদের হাতে চেক দিয়েছি। পরে চেক উদ্ধারের জন্য থানায় অভিযোগ করেছি।’
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ধর্ষণচেষ্টার কথা আমরা পরে জেনেছি। গুলজার হোসেন চেক উদ্ধারের ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত চলছে।’
খবরওয়ালা/এসআই