খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেট্তে-মারিটের ছেলে, ২৯ বছর বয়সী মারিয়ুস বর্গ হইবির বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের বিচার শুরু হওয়ায় দেশটির রাজপরিবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। রাজধানী অসলোতে শুরু হওয়া এই মামলা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সবচেয়ে আলোচিত বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনুসারে, এই ঘটনায় রাজপরিবারের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সুনাম পুনর্বিবেচনার জন্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সেলিব্রিটি ও রাজবংশ সম্পর্কিত ম্যাগাজিন সে ও হর এর সম্পাদক নিকলাস কোক্কিন-থোরেসেন মন্তব্য করেছেন, “রাজপরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নরওয়ের ইতিহাসে একটি বড় কেলেঙ্কারি। এই মামলার গুরুত্ব এবং প্রকাশ্য বিতর্ক রাজপরিবারের ওপর গণমাধ্যম ও জনমতের চাপ বাড়িয়েছে।”
মারিয়ুস হইবির বিরুদ্ধে অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| ক্র. নং | অভিযোগের ধরন | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | ধর্ষণ | চার নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ঘটেছে ২০১৮–২০২৪ সালের মধ্যে |
| ২ | শারীরিক সহিংসতা ও হুমকি | সাবেক বান্ধবীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ |
| ৩ | সম্পত্তি ভাঙচুর | বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ |
| ৪ | মাদক সংক্রান্ত অপরাধ | নিষিদ্ধ পদার্থের ব্যবহার ও চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ |
| ৫ | ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন | যানবাহন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ |
দোষী প্রমাণিত হলে হইবির ১০ বছরেরও বেশি কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। আদালত এই সাত সপ্তাহের বিচারের সময় ছবি তোলা ও মিডিয়া রিপোর্টিং সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
হইবির আইনজীবী পেতার সেকুলিচ জানিয়েছেন, হইবি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, তবে যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, ক্রাউন প্রিন্স হাকন ভুক্তভোগীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনাগুলো মূলত ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। মামলার মধ্যে এক নারী ঘুমন্ত অবস্থায় যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আগামী দিনগুলোতে আরও কয়েকজন নারী আদালতে সাক্ষ্য দেবেন।
শৈশব থেকেই মারিয়ুস হইবি সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত। এর আগে তিনি মাদকাসক্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। এই মামলার কারণে নরওয়ের রাজপরিবার নতুন করে চাপে পড়েছে এবং তাদের সামাজিক সুনাম ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মামলার ফলে রাজপরিবারের বিরুদ্ধে সমালোচনা ও বিতর্ক আরও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে, যা দেশীয় রাজনীতি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।