খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ঐতিহাসিক গুপ্ত জমিদার বাড়িটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
স্থানীয়ভাবে ‘অদ্দার বাড়ি’ নামে পরিচিত প্রায় ৩০০ বছর পুরনো এ স্থাপনাটি একসময় ছিল প্রজাহিতৈষী জমিদার রামমোহন গুপ্তের জমিদারির কেন্দ্র।
১৭০০ সালের শেষ দিকে নির্মিত বাড়িটি কাঠ, চুন, সুরকি ও ইট দিয়ে তৈরি। বিশাল এ ভবনটি এক সময় ছিল ১২০ কক্ষবিশিষ্ট। বর্তমানে মাত্র ২০টি কক্ষ অবশিষ্ট রয়েছে। আছে কাছারি ঘর, মন্দির, দীঘি ও নানা স্থাপনা। অথচ, সবকিছুই এখন জরাজীর্ণ। দেওয়ালে গজিয়েছে বটগাছ, ভিতরে বাসা বেঁধেছে সাপ, আর ছাউনির চিহ্ন নেই।
জমিদার রামমোহনের শাসনামলে হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে আদিবাসী হটাও আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি জনগণের হৃদয় জয় করেন। তার ধর্মবোনের কাছ থেকে প্রাপ্ত গুপ্তধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এই জমিদারি। তিনি মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণসহ বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেন। প্রতি বছর ধর্মবোনের স্মরণে গরু জবাই করে মেহমানদারির আয়োজন করতেন, যা তার মৃত্যুর পর বন্ধ হয়ে যায়।
১৯৪৮ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর বাড়িটির দুর্দশা শুরু হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজাকারদের আগুনে অনেক মূল্যবান নিদর্শন নষ্ট হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির বেশিরভাগ অংশই এখন ধ্বংসস্তূপ। কিছু বংশধর এখনো ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন, বাকিরা শহরে বা ভারতে চলে গেছেন।
পদুয়া জমিদার পরিবারের সদস্য প্রধান শিক্ষক সুনীল চৌধুরী বলেন, ‘‘এ বাড়ির সৌন্দর্য একসময় ছিল চোখ ধাঁধানো। এখন সংস্কারের অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’’
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিকায়ত আলি বলেন, ‘‘পুরাকীর্তির স্বীকৃতি দিয়ে বাড়িটি দ্রুত সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।’’
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘‘এটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’
খবরওয়ালা/আশ