খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আটজন উপদেষ্টাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যাদের মধ্যে থেকে প্রথম পর্যায়ে এই আটজনকে সুনির্দিষ্ট দপ্তর বুঝিয়ে দেওয়া হলো।
নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের পাশাপাশি পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। সরকার পরিচালনার নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে গতি আনতে পাঁচজনকে পূর্ণ মন্ত্রী পদমর্যাদায় এবং তিনজনকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিচে নবনিযুক্ত উপদেষ্টাদের নাম, পদমর্যাদা এবং তাঁদের অর্পিত দপ্তরের বিস্তারিত তালিকা প্রদান করা হলো:
| উপদেষ্টার নাম | পদমর্যাদা | অর্পিত মন্ত্রণালয়/দায়িত্ব |
| মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ | মন্ত্রী | রাজনৈতিক উপদেষ্টা |
| নজরুল ইসলাম খান | মন্ত্রী | রাজনৈতিক উপদেষ্টা |
| রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ | মন্ত্রী | রাজনৈতিক উপদেষ্টা |
| মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ | মন্ত্রী | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় |
| রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর | মন্ত্রী | অর্থ মন্ত্রণালয় |
| ব্রি. জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম | প্রতিমন্ত্রী | প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় |
| মাহদী আমিন | প্রতিমন্ত্রী | শিক্ষা; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় |
| রেহান আসিফ আসাদ | প্রতিমন্ত্রী | ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় |
নতুন এই বণ্টন আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক ও নীতি-নির্ধারণী কার্যক্রমে নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের মতো বিশেষজ্ঞ এবং জনপ্রশাসনে অভিজ্ঞ মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নিয়োগ দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারে বড় ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিনকে শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ চারটি দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের এই প্রতিনিধির ওপর অর্পিত এই গুরুভার দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। অন্যদিকে, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের আধুনিকায়নে রেহান আসিফ আসাদের অন্তর্ভুক্তি ‘ডিজিটাল বৈষম্য’ কমিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামের উপস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাড়তি পেশাদারিত্ব যোগ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান এবং রুহুল কবীর রিজভীর মতো জ্যেষ্ঠ নেতাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সরকারের ভেতর ও বাইরের রাজনৈতিক সমন্বয় আরও জোরালো হবে। বিশেষ করে আগামী দিনগুলোতে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং রাজনৈতিক সংলাপের পথ সুগম করতে এই অভিজ্ঞ ত্রয়ী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এই নিয়োগ ও দপ্তর বণ্টন অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সচিব ও কর্মকর্তাদের নতুন উপদেষ্টাদের সাথে সমন্বয় করে দাপ্তরিক কাজ শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।