খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৫
ভিয়েতনামের ‘কোয়াভায়োটিক’ কোম্পানি কোটি টাকার বাজার গড়ে তুলেছে পরিবেশবান্ধব পণ্য দিয়ে সাধারণত আনারস খেয়ে আমরা এর খোসা ফেলে দিই। অথচ এই ফেলে দেওয়া খোসাই যদি হয়ে ওঠে কোটি টাকার ব্যবসার মূল উপাদান? এমনই অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিয়েছে ভিয়েতনামের ‘কোয়াভায়োটিক (Quavayotic)’ নামের একটি কোম্পানি।
এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা লে দ্যু ইয়াং (Le Duy Yang) জানিয়েছেন, আনারসের খোসা থেকে সাবান ও ক্লিনজার তৈরির ভাবনাটা এসেছে তার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে। তার তৈরি প্রাকৃতিক সাবান ও ক্লিনজার এখন ভিয়েতনামের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও সাড়া ফেলছে।
প্রাকৃতিক উপায়ে সাবান তৈরির পদ্ধতি
এটি তৈরী করতে প্রথমে আনারসের খোসা সংগ্রহ করা হয়। খোসাগুলোকে ভালো করে ধুয়ে একটি ড্রামে চিনির পানিতে মেশানো হয়। যেটি ব্যাকটেরিয়া ও এনজাইম তৈরী করতে সহায়তা করে। খোসাগুলো চিনির পানিতে এমনভাবে রাখা হয় যাতে আনারসের খোসা পানিতে ডুবে থাকে। তারপর ড্রামটিকে তিন থেকে পাঁচদিন এমন একটা জায়গায় রাখা হয় যেখানে সূর্যের আলো সবচাইতে বেশি। প্রতিদিন ড্রামটি বার বার পরীক্ষা করা হয় যাতে গ্যাস কিংবা বুদবুদ তৈরী হচ্ছে কিনা।
ফারমেন্টেশন শেষ হলে সেই তরল ফিল্টার করে ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই ক্লিনজারে থাকা প্রাকৃতিক এনজাইম, অ্যালকোহল ও ল্যাকটিক অ্যাসিড জীবাণু ধ্বংস করে এবং ত্বক পরিষ্কারে সাহায্য করে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই ক্লিনজার এতটাই প্রাকৃতিক যে এটি খাওয়ার উপযোগী বলেও দাবি করেছেন লে দ্যু ইয়াং!
অথচ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি সাবানের একটা সমস্যা হলো এর স্থায়িত্ব—তবে কোয়াভায়োটিক কোম্পানি এ সমস্যার সমাধান বের করেছে। তারা এমন এক পদ্ধতি ব্যবহার করছে যাতে করে এই সাবান দুই বছর পর্যন্ত সংরক্ষণযোগ্য থাকে, কোনো প্রিজারভেটিভ ছাড়াই।
ত্বকের জন্য উপকারিতা
আনারসে থাকা ভিটামিন সি এবং এনজাইম ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ত্বককে মসৃণ, উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করে তোলে। বিশেষ করে যাদের সেনসিটিভ স্কিন বা ব্রণের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই সাবান কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এই প্রাকৃতিক সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে, যেখানে অনেক কেমিক্যালযুক্ত সাবান ত্বককে শুষ্ক ও টানটান করে ফেলে।
পরিবেশ রক্ষায় নতুন এক দৃষ্টান্ত
আনারস খাওয়ার পর খোসা ফেলে দিলে তা পচে গিয়ে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গ্যাস উৎপন্ন করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব বাড়ায়। অথচ কোয়াভায়োটিক এই ফেলনা খোসাকেই কাজে লাগিয়ে তৈরি করছে এমন পণ্য যা সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং শরীরের জন্যও নিরাপদ।
বাংলাদেশে সম্ভাবনা
বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেটসহ বেশ কিছু অঞ্চল আনারস চাষের জন্য উপযোগী। চাইলে বাংলাদেশেও এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে যেমন নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি হবে, তেমনি পরিবেশ রক্ষার দিকেও এক ধাপ এগিয়ে যাবে দেশ।
ভিয়েতনামের কোয়াভায়োটিক কোম্পানির এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিকভাবে সফল নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য এবং টেকসই পণ্য ব্যবহারের এক দারুণ দৃষ্টান্ত। আনারসের খোসা থেকে শুরু করে কোটি টাকার বাজার।
খবরওয়ালা/এমইউ