খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
শীতের শুরুতে সাধারণত কমতে শুরু করে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপস্থিতি; তবে গত বছর এ ধারায় ব্যত্যয় দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গত বছর ভর্তি হওয়া এক লাখ এক হাজার ২১১ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছিলেন নভেম্বর মাসে। এ বছরও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বর্ষা শেষ হলেও শীতের আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না, বরং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত তিন মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি মাসে দেড় গুণ হারে রোগী ও মৃত্যু বেড়েছে। চলতি নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে ১৩ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর সরকারি হিসেবে মারা গেছেন ৪৮ জন। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে চলতি মাসে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়াতে পারে, মৃত্যুর সংখ্যা শতাধিক ছাড়ার শঙ্কাও রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি বৃষ্টির ধরন পাল্টে গেছে, ফলে এডিস মশার প্রজনন চক্র দীর্ঘ হয়েছে। মশক নিধনে নিষ্ক্রিয় কার্যক্রম, আগাম প্রস্তুতির অভাব এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতা ও অবহেলার কারণে ডেঙ্গু এখন আর শুধু বর্ষার রোগ নয়, সারা বছর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে ১০ হাজার ৪৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন, মৃত্যু হয় ৩৯ জনের। সেপ্টেম্বরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৮৬৬ জন, মৃত্যু হয় ৭৬ জনের। অক্টোবরে ২২ হাজার ৫২০ জন ভর্তি হন, মৃত্যু হয় ৮০ জনের। চলতি নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে ভর্তি হয়েছে ১৩ হাজার ২০৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে এডিস মশা নির্মূল করা অপরিহার্য। শুধু কীটনাশক স্প্রে বা ধোঁয়া যথেষ্ট নয়। কার্যকর প্রতিরোধের জন্য সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। মশার নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকারি দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
সর্বশেষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়নি, তবে ৪৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৬৬ জনে পৌঁছেছে, মৃত্যু হয়েছে ৩২৬ জনের।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালে ২৪ জন, বরিশাল বিভাগে ৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৩ জন, ঢাকা বিভাগে ৭১ জন এবং সিলেট বিভাগে ৫ জন ভর্তি হয়েছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন