খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ জুন) এই ঘটনায় কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে আতিকুল হাসান অনি নামে একজনকে আসামি করে ভোক্তভোগী ওই ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের মঘুয়া গ্রামে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ধর্ষক স্থানীয় মন্নারা বাজারের ব্যবসায়ী ও মঘুয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন বাবুলের ছেলে আতিকুল হাসান অনি (২২)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ওই ছাত্রী পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর খাওয়া-দাওয়া করে নিজের বসতঘরে ঘুমিয়ে যায়। এসময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির হেলাল উদ্দিন বাবুলের ছেলে আতিকুল হাসান অনি ওই ছাত্রীকে একা পেয়ে তার ঘরের দরজা খোলে শরীরে থাকা ওড়না দিয়ে তার মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রীর মা বাজার থেকে ফিরে আসছে এটা বুঝতে পেরে পালিয়ে যায় অনি। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ওই ছাত্রীকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকাতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমি ঘরে শুয়ে ছিলাম, অনি জোরপূর্বক আমার শরীর থেকে ওড়না নিয়ে আমার মুখ বেঁধে আমাকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই আমি।
ধর্ষিতার মা বলেন, ঘটনার দিন বাড়িতে মেয়েকে একা রেখে বাজারে যাই আমি, ফিরে এসে বাড়ির গেইট ভেতর থেকে বন্ধ করা দেখতে পাই। পরে আমি অন্য উপায়ে বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেখি দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে অনি এবং আমার মেয়ে অচেতন হয়ে উলঙ্গ অবস্থায় পড়ে আছে।
অভিযোগের বিষয় জানতে অনির বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় নাই তাকে । তবে অনির মা রুজিনা বেগম জানান, ‘আমার ছেলে ধর্ষণ করে নাই, মেয়ের হাত ধরে টানাটানি করছে শুধু’।
স্থানীয় জাবেদ হোসেন সাগর বলেন, ধর্ষণের এই বিষয়টি এলাকাবাসী আমরা সবাই জানি, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ঢালুয়া ইউপির ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মাহফুজুর রহমান বলেন, এই ঘটনা সমাধানের জন্য আমরা বসার চেষ্টা করেছি কয়েক দফা, একটি পক্ষ আমাদেরকে মানতেছে না, তবে আমরা কালকে (শুক্রবার) এর মধ্যে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করবো।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, এই ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি, আমাদের কাছে তদন্ত আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
খবরওয়ালা/টিএস