খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নাটোরে একটি বিশাল অংকের ব্যাংক লেনদেনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের এক প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় চার কোটি টাকার একটি সন্দেহজনক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দুপুরে সোনালী ব্যাংক থেকে ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তরিত এই অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাটোর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এবং সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা থেকে সোনালী ব্যাংক নাটোর শাখার মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এত বড় অংকের টাকা উত্তোলনের প্রচেষ্টাকে তিনি ‘ভোট কেনাবেচা’র ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।
লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। ইসলামী ব্যাংক নাটোর শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) রেজাউল করিম জানান, এটি কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন নয়। নির্বাচনের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকবে বিধায় গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথে নগদ টাকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। তবে সোনালী ব্যাংক নাটোর প্রধান শাখার এজিএম উজ্জ্বল কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
নিচে ঘটনার সাথে জড়িত পক্ষসমূহ এবং তাদের অবস্থান তুলে ধরা হলো:
| পক্ষ | অবস্থান ও মন্তব্য |
| অভিযোগকারী (বিএনপি প্রার্থী) | টাকাগুলো ভোট কেনাবেচায় ব্যবহৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা। |
| সোনালী ব্যাংক (প্রেরক) | অভিযোগের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে লেনদেন স্থগিত। |
| ইসলামী ব্যাংক (প্রাপক) | এটিএম বুথের নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে এই অর্থ আনা হয়েছে। |
| রিটার্নিং কর্মকর্তা | সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ। |
| লেনদেনের পরিমাণ | প্রায় ৪,০০,০০,০০০ (চার কোটি) টাকা। |
নাটোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন নিশ্চিত করেছেন যে, প্রার্থীর আবেদনের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে লেনদেনটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটোর শহর ও আশপাশের নির্বাচনী এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে যে, নির্বাচনের আগে কালো টাকার প্রভাব রুখতে এটি একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, নির্বাচনের ঠিক আগে বড় অংকের অস্বাভাবিক নগদ লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে। নাটোরে এই অর্থ শেষ পর্যন্ত কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছিল, তা নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সমন্বিত তদারকি এখন সময়ের দাবি।