খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক নিলুফা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি হিসাবরক্ষক পরিচয়ে ১৭ বছর ধরে একপ্রকার ‘ভক্ষকের’ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
জানা গেছে, নিলুফা ইয়াসমিন পরিবারসহ টানা ২৮ বছর ধরে সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন। অথচ তিনি কোয়ার্টার নয়, ডরমিটরির একটি সিট ব্যবহার করছেন বলে দেখিয়ে প্রতি মাসে মাত্র ৯১৮ টাকা ভাড়া জমা দিচ্ছেন। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নীতিমালা অনুযায়ী, পুরো কোয়ার্টারের ভাড়া হওয়া উচিত কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা। বাসভবনের বারান্দায় কাপড় শুকানোসহ অন্যান্য দৃশ্য থেকে স্থানীয়দের দাবি—এটি তার পরিবারসহ দীর্ঘদিনের দখলদারির পরিষ্কার প্রমাণ।
গত ২৫ মে এ বিষয়ে দেশের একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানার পরও কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু কোয়ার্টার ভাড়া নয়, ভুয়া রসিদ তৈরি ও বিভিন্ন বরাদ্দকৃত অর্থের হিসাব গোপন রেখে নিলুফা ইয়াসমিন একাধিকবার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা ইতোমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সিভিল সার্জন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র নিলুফা ইয়াসমিনই নন—পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফদের বিরুদ্ধেও রয়েছে দুর্ব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ।
বিষয়টি নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/আরডি