খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩০ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাফ নদী এখন বাংলাদেশি জেলেদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে যাচ্ছে। গত ২৩ দিনে ৬৩ জন জেলে ও ১০টি ট্রলার অপহরণের শিকার হয়েছে।
এদিকে, বেপরোয়া আরাকান আর্মির হাত থেকে জেলেদের বাঁচাতে কোস্ট গার্ড সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১২২ জনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে ২৯ জন বাংলাদেশি ও ৯৩ জন রোহিঙ্গা জেলে। গত চার দিনে আরাকান আর্মি ৪৪ জন জেলেকে তুলে নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। চোরাচালানি পণ্য জব্দ করায় আরাকান আর্মি ক্ষুব্ধ হয়ে এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
টেকনাফ ট্রলার মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ১০টি ট্রলারসহ ৬৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এর আগে ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ জন জেলে অপহৃত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮৯ জনকে বিজিবির প্রচেষ্টায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট বোট মালিক সমিতি জানিয়েছে, গত ২২ দিনে ৫১ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি এবং তাদের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ, সাগর থেকে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে দুটি ট্রলারসহ ১১ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রলার মালিক সমিতি চার দিনে ৬টি ট্রলারসহ ৪৪ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, আরাকান আর্মির হেফাজতে ৫১ জন বাংলাদেশি জেলে রয়েছে এবং তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বিজিবির রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না থাকলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো জেলে অপহরণ না হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন