পুরান ঢাকার ঢাকা নগরের নারিন্দা এলাকার মৈশুন্ডিতে একটি বাসায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন মুক্তার বেপারী, তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম এবং তাঁদের ছেলে সেলিম বেপারী। পরিবারটির বাড়ি নারিন্দার মৈশুন্ডি এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ এসি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে ঘরের ভেতরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় ঘর ভরে যায়। এতে তিনজনই দগ্ধ হন। পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
আজ শুক্রবার ভোররাতে হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দগ্ধদের শরীরের বিভিন্ন অংশে পোড়া ক্ষত রয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধের মাত্রা নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
প্রাথমিক তথ্যের সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | নারিন্দা, মৈশুন্ডি, পুরান ঢাকা |
| ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাত |
| দুর্ঘটনার ধরন | এসি বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ড |
| দগ্ধের সংখ্যা | ৩ জন (মা, বাবা ও ছেলে) |
| চিকিৎসাকেন্দ্র | ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট |
এসি বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি বিস্ফোরণের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে, যেমন—
-
বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট
-
দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব
-
নিম্নমানের তার বা সংযোগব্যবস্থা
-
অতিরিক্ত লোড বা ভোল্টেজের তারতম্য
পুরান ঢাকার অনেক পুরোনো ভবনে এখনো পুরনো বৈদ্যুতিক সংযোগব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে, যা অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়। ফলে শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকেই বিস্ফোরণ ও আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে; তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ।
সতর্কতামূলক করণীয়
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত এসি ও বৈদ্যুতিক লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, মানসম্মত সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার এবং অতিরিক্ত মাল্টিপ্লাগ বা অনিরাপদ সংযোগ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ঘরে রাখা এবং জরুরি নম্বর হাতের কাছে রাখা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।