খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ তহবিল থেকে বড় পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার ঘটনায় ৯ জন দোষ স্বীকার করেছেন। অভিযোগে আসামিদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই দোষ স্বীকার করা হয়। আদালত তাদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার জরিমানা করেন। এর মধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার ইতিমধ্যেই ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং ১৩ ফেব্রুয়ারি এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারা জানান, আসামিরা ২০২০ সালের জুন থেকে নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে আবেদন করে সরকারি তহবিল আত্মসাৎ করেছিল।
সরকারি নথিতে দেখা গেছে, তারা সরকারি তহবিল প্রাপ্তির পর তা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবগুলোতে স্থানান্তর করেছিল। ব্যাংক লেনদেন এবং ট্যাক্স নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো তহবিল পাওয়ার আগে কার্যত কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছিল না।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ গণমাধ্যমকে বলেন, “মহামারির সময়ে হিমশিম খাওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল আত্মসাৎ করা গুরুতর অপরাধ। দোষ স্বীকারের মাধ্যমে আসামিরা এখন ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।” নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, “দুর্যোগকালীন তহবিল ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা জনস্বার্থের পরিপন্থী।”
মামলাটি নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিস ২০২৪ সালের মে মাসে শুরু করে এবং পরে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে হস্তান্তর করা হয়। আসামিরা ২০২৫ সালের মে ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আত্মসমর্পণ করেন।
নিচের টেবিলে আসামিদের নাম, বয়স ও তহবিল ফেরতের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| নাম ও বংশ | বয়স | তহবিল ফেরত (ডলার) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মাহবুব মালিক (বাংলাদেশি) | ৪১ | ৮০,০০০ | দোষ স্বীকার করেছেন |
| তোফায়েল আহমেদ (বাংলাদেশি) | ৫০ | ৭৫,০০০ | দোষ স্বীকার করেছেন |
| ইউসুফ এমডি (বাংলাদেশি) | ৪৫ | ৫০,০০০ | দোষ স্বীকার করেছেন |
| মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (বাংলাদেশি) | ৬৮ | ৭০,০০০ | প্রথম পরিশোধ করেছেন |
| জাকির চৌধুরী (বাংলাদেশি) | ৫৯ | ৭৫,০০০ | ২৩ মার্চ পর্যন্ত বাকি পরিশোধ করবেন |
| মোহাম্মদ খান (বাংলাদেশি) | ৪৯ | ৬০,০০০ | দোষ স্বীকার করেছেন |
| তানভীর মিলন (বাংলাদেশি) | ৫৫ | ৫০,০০০ | দোষ স্বীকার করেছেন |
| জুনেদ খান (বাংলাদেশি) | ৫৬ | ৪৫,০০০ | দোষ স্বীকার করেছেন |
| নাদিম শেখ (পাকিস্তানি) | ৫৬ | ৪৫,০০০ | দোষ স্বীকার করেছেন |
জাকির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, “আমি চাইলে ট্রায়ালে যেতে পারতাম, কিন্তু সময় ও খ্যাতির ক্ষতি হতো। সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনার খোকন আশরাফ আমার অফিসের নাম ব্যবহার করে তহবিল নিয়েছে, যার অর্ধেক টাকা নিয়ে গেছে।”
মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফও উল্লেখ করেন, “কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথমেই ৭০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছি। বিষয়টি এখন সমাধান হয়েছে।”
এই মামলার মাধ্যমে নিউইয়র্কে করোনা তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত বার্তা দেওয়া হলো।