অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে মো. ফাতেহ আলী (৬১)কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে পুলিশ বিপাকে পড়েছে। পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যে তাকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট এবং হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করার সময় তিনি বিভিন্ন হুমকি ও কটূক্তি করেছেন।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে হাতিরঝিল থানায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয় সুব্রত বাইনকে।
প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর সময় হাজতখানার পুলিশ সদস্যরা তার শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় হেলমেট এবং হাতে হাতকড়া পরাতে চাইলে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকেন।
এই সময় সুব্রত বাইন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘এতো নিরাপত্তা, অমুক তমুক- কত কিছুই না দেখব!’
এক পুলিশ সদস্য পরে তার শরীরে জ্যাকেট ও হেলমেট পরান। দুই হাত পিছমোড়া করে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে ধমক দেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ রিপন মোল্লাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি কবে থেকে ডিউটি করেন? আমি কইবার এখানে (কোর্টে) আসছি?’
জবাবে রিপন মিয়া বলেন, ‘আপনার নিরাপত্তা স্বার্থে এসব করা হচ্ছে।’
এরপর প্রিজনভ্যান থেকে হাঁটিয়ে হাজতখানায় নেওয়া হয় সুব্রত বাইনকে। পথে তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিজেদের নিরাপত্তার ঠিক নেই, আসছেন আবার আমার নিরাপত্তা দিতে! আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করুন।’
হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা বিষয়টি নিয়ে বলেন, ‘হাতকড়া পরানো নিয়ে আমাদের নিয়ে আসামি বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন।’
বেলা পৌনে ১টার দিকে হাতিরঝিল থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলার চার্জগঠন শুনানির জন্য সুব্রত বাইন ও তার সহযোগী আরাফাত ইবনে নাসিরকে হাজতখানা থেকে ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ নম্বর বিচারক ফাহ্মিদা জাহাঙ্গীরের আদালতের এজলাসে তোলা হয়।
শুনানির সময় তাদের শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট ও হাতকড়া পরানো হয়। আদালতের কাঠগড়ায় ওঠানোর পর জ্যাকেট ও হেলমেট খুলে দেওয়া হয়।
বিচারক এজলাসে ওঠার পর চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়। সুব্রত বাইনের পক্ষে আইনজীবীরা আসামির অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ চার্জগঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।
চার্জগঠনের সময় সুব্রত বাইন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। আদালত আগামী ১৬ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
গত ১৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫ নম্বর আদালতে বিচারাধীন হওয়ার জন্য স্থানান্তর করা হয়।
চার্জশিটভুক্ত অপর তিন আসামি হলেন আবু রাসেল মাসুদ ওরফে মোল্লা মাসুদ, এম এ এস শরীফ এবং আরাফাত ইবনে নাসির। শুনানিতে সুব্রত বাইন ও আরাফাত ইবনে নাসিরকে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। অপর দুই আসামি- আবু রাসেল মাসুদ ও এম এ এস শরীফ- ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
খবরওয়ালা/শরিফ