খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৮ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, পঞ্চগড়ে উদ্ধার হওয়া মুফতি মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ মিয়াজী (৬০) নিজেই পায়ে শিকল লাগিয়ে অপহরণের নকল ঘটিয়েছেন।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মামলায় বাদী যে সময় ও স্থানের কথা বলেছেন, সেই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ কোনও অপহরণের প্রমাণ পাননি। বরং পাওয়া ফুটেজে দেখা গেছে তিনি নিজে পায়ে শিকল বেঁধে রাস্তার পাশে শুয়ে ছিলেন। উদ্ধারকালে তাঁর মূল বিবরণ ও পরে মামলায় যা বলা হয়েছে—তার বেশিরভাগই পুলিশে সাজানো গল্প বলে দাবি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মুফতি মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ টঙ্গীর টিআনটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব। তিনি অভিযোগ করে ২৪ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়—২২ অক্টোবর সকালে হাঁটতে বের হলে একটি অ্যাম্বুলেন্স তাঁর পথ রোধ করে, তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং পরে পঞ্চগড়ে তিনি শিকলবাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হন; স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল করলে সদর থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বলে বলা হয়েছিল।
তদন্তে পুলিশ বাদীর বাসা থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। তদন্তকারী দল জানায়, ওইদিন তিন ঘণ্টার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের কোনো চিত্র সিসি-তে পাওয়া যায়নি; এছাড়া বাদী যে স্থানগুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলোরও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, ২২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে তিনি পঞ্চগড়ের সর্বশেষ বাসস্টেশনে নেমে হাঁটছিলেন; পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা পুলিশ লাইন্সের আশপাশে দেখা যায়। কিছুদূর গিয়ে তিনি একটি অন্ধকার স্থানে রাস্তার পাশে প্রস্রাব করতে গিয়ে পায়জামা ও পাঞ্জাবি ভিজে যায়, নিজের হাতে কাপড় খুলে ফেলেন এবং রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া একটি ছোট তালাযুক্ত শিকল পায়ে জড়িয়ে রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে তিনি পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে পৌঁছে, সেখানে অনেকে তাঁর সঙ্গে কথা বললে তিনি অনসচেতন অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন—এও পুলিশ জানান।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনার পর মোহেববুল্লাহ নিজেও একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন যে মাঝে মাঝে তাঁর চারপাশে এমন সমস্যা দেখা দেয় এবং এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।
মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে; পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়—ওই ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এখানে জড়িত ছিলেন কি না, বা কারো প্ররোচনায় তিনি এ কাজ করেছেন কি না, তা অনুসন্ধানে স্পষ্ট করা হবে। আজকের সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, উপপুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসন ভূঁইয়া, মো. মহিউদ্দিন আহমেদ ও এস এম শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।