নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবনে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর। সেদিন এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে জন্ম দেয় দেশের সবচেয়ে আলোচিত সামাজিক আন্দোলন—‘নিরাপদ সড়ক চাই’।
১৯৭৭ সালে সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের। এরপর ১৯৭৯ সালে ‘সুন্দরী’ মুক্তির সময় তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেন জাহানারাকে। দাম্পত্য জীবনে তারা এক ছেলে মিরাজুল ইসলাম মঈন (জয়) ও এক মেয়ে ইশরাত জাহান ইমা’র জনক-জননী হন।
১৯৯৩ সালের অক্টোবরের সেই দিনে জাহানারা কাঞ্চন সন্তানদের নিয়ে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। পথে চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাদের মাইক্রোবাসের সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা অন্য সবাই—যেমন দুই সন্তান ও ড্রাইভার—অক্ষত থাকলেও জাহানারা কাঞ্চন গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এই দুর্ঘটনাই ইলিয়াস কাঞ্চনের জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্রিয়জন হারানোর শোকে ভেঙে না পড়ে তিনি শুরু করেন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আন্দোলন—‘নিরাপদ সড়ক চাই’। ধীরে ধীরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে প্রতি বছর ২২ অক্টোবর ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়—জাহানারা কাঞ্চনের স্মৃতিতে, এবং সড়ক নিরাপত্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।
ওপারে ভালো থাকুন, জাহানারা কাঞ্চন—আপনার মৃত্যুই জাগিয়ে তুলেছিল একটি জাতিকে।
খবরওয়ালা/তানসিন