খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে পৌষ ১৪৩২ | ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ব্যাপকভিত্তিক যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে এমন যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে এই অভিযান পরিচালিত হবে।
নির্বাচন কমিশনারের তথ্যমতে, এই বিশেষ অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে ইতিপূর্বেই সকল বাহিনীর প্রধানদের সাথে নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি বাহিনীর সদর দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করা হবে, যা অভিযানের আইনি কাঠামো ও কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দেবে। মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি এবং র্যাবের সমন্বয়ে এই যৌথ টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নিচে যৌথবাহিনীর এই বিশেষ অভিযানের প্রধান লক্ষ্যমাত্রা ও কৌশলগুলো সারণি আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| অভিযানের প্রধান লক্ষ্য | বিস্তারিত কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য |
|---|---|
| অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার | সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বন্ধ করা এবং তা জব্দ করা। যেন কোনোভাবেই অস্ত্র অপকর্মে ব্যবহৃত না হয়। |
| সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার | তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত অপরাধী এবং সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। |
| আচরণবিধি তদারকি | প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধির বড় ধরনের কোনো লঙ্ঘন করছেন কি না তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা। |
| সীমান্ত ও শরণার্থী ক্যাম্প | রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো সিলগালা করা এবং জল ও স্থলপথে কড়া নজরদারি বাড়ানো। |
| রুটিন তদারকি | ছোটখাটো আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে স্থানীয় নিয়মিত কমিটিগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। |
বিশেষ করে কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশনার রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ভোটের সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পুরোপুরি সিলগালা করে দিতে হবে যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী সেখান থেকে বেরিয়ে নির্বাচনী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। একইসাথে বাংলাদেশের জলসীমা এবং স্থল সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা চোরাচালান বন্ধ থাকে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচনে আমরা যদি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক পরিণতি দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ভোগ করতে হবে।” তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে বাহিনী নির্বিশেষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন মনে করে, সময়োপযোগী এই যৌথ অভিযানের ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত হয়ে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে। স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই অভিযানকে সফল করার জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।