খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের দুটি নির্বাচনি অফিসকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার চরওয়াপদা ইউনিয়নের আল-আমীন বাজারে পরিচালিত এই অভিযান নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছেনমং রাখাইন। তিনি জানান, নির্বাচনি অফিসে বিধি বহির্ভূতভাবে আলোকসজ্জা করা এবং রঙিন পোস্টার লাগানোর কারণে দল দুটি শাস্তিমূলক জরিমানার আওতায় এসেছে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী পরিবেশকে সুষ্ঠু রাখা আমাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব। যারা নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য যৌথ বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত নির্বিঘ্নে কাজ করতে সক্ষম হয় এবং বাজার ও আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখা যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ নিম্নরূপ:
| দল ও অফিসের নাম | অভিযোগ | জরিমানা (টাকা) |
|---|---|---|
| বিএনপি নির্বাচনি অফিস | আলোকসজ্জা ও রঙিন পোস্টার লাগানো | ৫,০০০ |
| জামায়াত ইসলামী নির্বাচনি অফিস | আলোকসজ্জা ও রঙিন পোস্টার লাগানো | ৫,০০০ |
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি আচরণবিধি রক্ষা ও ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত মাঠে কাজ করছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনোরূপ অবৈধ কার্যক্রম যেমন প্রার্থীর প্রচারণার বাইরে আলোকসজ্জা, রঙিন পোস্টার, উচ্ছৃঙ্খল সভা বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া জানা যায়, তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই বলছেন, “নির্বাচনের সময় সবকিছু সুষ্ঠুভাবে চললে সাধারণ মানুষ ভয়বিহীনভাবে ভোট দিতে পারবে। এমন অভিযান আমাদের জন্য আশ্বস্তকরণমূলক।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার ছেনমং রাখাইন আরও বলেন, “ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনী অফিস ও প্রার্থীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যারা বিধি লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু থাকবে।”
এই পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনের পূর্বাভাস ও প্রচারণার সময় শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটকে স্বাধীন ও সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
সর্বশেষ প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযানের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার জন্য কর্মশালা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য প্রদানে কাজ চলছে। ফলে ভোটাররা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং প্রতিটি প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের আচরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে।