নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এলাকার পরিচিত মাদক কারবারি ফাইটার মনির ওরফে মনির এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত বলে অভিযোগ থাকা একটি মাদক স্পটে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ১৫ কেজি গাঁজাসহ ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুমকে (২৪) আটক করা হয়।
তবে আটক হওয়ার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরা শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে গ্রেপ্তারকৃত ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক। আহতদের দ্রুত নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আহতদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো—
বিষয়
তথ্য
ঘটনার স্থান
মাসদাইর গুদারাঘাট, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ
ঘটনার সময়
শনিবার রাত সাড়ে ১১টা
অভিযানের ধরন
মাদকবিরোধী অভিযান
গ্রেপ্তার
৩ জন
উদ্ধারকৃত মাদক
১৫ কেজি গাঁজা
আহত পুলিশ সদস্য
৫ জন
হামলাকারীদের গুলিবর্ষণ
১০–১২ রাউন্ড
পুলিশের পাল্টা গুলি
২ রাউন্ড
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ফাইটার মনিরকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাকে ছাড়িয়ে নিতে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করে।
তিনি আরও জানান, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পলাতক হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় এ ধরনের হামলা শুধু পুলিশের কাজকে বাধাগ্রস্ত করে না, বরং জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি সৃষ্টি করে। তাই মাদক কারবার ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।