নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ ও পদক্ষেপের দাবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের নির্বিঘ্ন ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে ‘সিটিজেন ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন। রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হয়।

সহিংসতার চিত্র ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রামের রাউজান ও মিরসরাইয়ের আক্রান্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র। গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে রাউজানে কমপক্ষে ১২টি সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে ঘরে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া মিরসরাইয়ে সাতটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন বলেন, এই সহিংসতার মূল উদ্দেশ্য হলো আতঙ্ক ছড়িয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রধান ৫ দফা দাবি:

ক্রমিক দাবির বিষয়বস্তু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
০১ বিশেষ প্রশাসনিক সেল গঠন সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা তদারকি ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান।
০২ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার রাউজান ও মিরসরাইসহ সব সহিংসতার তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার।
০৩ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা এবং মানসিক আঘাত নিরাময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ।
০৪ মানবাধিকার কমিশনের নজরদারি নবগঠিত কমিশনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
০৫ রাজনৈতিক দলের ভূমিকা সব দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ও কর্মকাণ্ডে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার অঙ্গীকার।

বক্তাদের উদ্বেগ ও দাবি

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের নিরাপত্তার বিধান থাকলেও বর্তমানে সংখ্যালঘুরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁদের কার্যত দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে ভোট প্রদান থেকে বিরত রাখতেই এই পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানো হচ্ছে।

আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা বলেন, এই নিপীড়নের ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ দেশান্তরি হচ্ছেন। একে তিনি ‘সংখ্যাশূন্যকরণ প্রক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা না গেলে দেশে বৈষম্য ও নিপীড়ন আরও চরম আকার ধারণ করবে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বক্তারা অভিযোগ করেন, রাউজান ও মিরসরাইয়ের সহিংসতা দমনে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। কার্যকর আইনি পদক্ষেপের অভাব অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনমুখী সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যাতে তারা কেবল ভোটের সময় নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও সংখ্যালঘু জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সতেজ চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা এবং মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা। বক্তারা একযোগে দাবি করেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই নাগরিকের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।