খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫
পুরুষদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে এক নীরব কিন্তু প্রাণঘাতী রোগ—প্রোস্টেট ক্যানসার। ইউরোলজিস্ট ডা. মাহমুদুর রহমান মাসুদ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রোস্টেট ক্যানসার শুরুতে প্রায় কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো শনাক্ত না হলে এটি প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
প্রোস্টেট হলো পুরুষদের মূত্রাশয়ের নিচে অবস্থিত একটি গ্রন্থি। এর কোষে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটলে প্রোস্টেট ক্যানসার হয়। ডা. মাহমুদুর রহমান মাসুদের মতে, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ না থাকায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তবে ক্যানসারটি অগ্রসর হলে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন, প্রস্রাব শুরু করতে অসুবিধা, প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হওয়া, মূত্রাশয় সম্পূর্ণ খালি না হওয়ার অনুভূতি, এবং কখনও কখনও প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত দেখা যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া পিঠের নিচের অংশ, নিতম্ব বা উরুতে ব্যথা এবং লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঝুঁকির কারণ
ডা. মাসুদের ব্যাখ্যায়, বয়স প্রোস্টেট ক্যানসারের প্রধান ঝুঁকির উপাদান। ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি পরিবারের কারও ক্যানসারের ইতিহাস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, স্থূলতা এবং কিছু জাতিগত কারণও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
চিকিৎসায় নতুন অগ্রগতি
বর্তমানে প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা অনেক উন্নত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ (Active Surveillance) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যাতে নিয়মিতভাবে রোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।
রোগের উন্নত পর্যায়ে অস্ত্রোপচার (Radical Prostatectomy) করে প্রোস্টেট গ্রন্থি অপসারণ করা হয়। এছাড়া রেডিয়েশন থেরাপি, হরমোন থেরাপি, কেমোথেরাপি, এবং আধুনিক টার্গেটেড থেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি এখন কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রতিরোধ ও সচেতনতা
ডা. মাসুদ পরামর্শ দিয়েছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ও মদ্যপান থেকে বিরত থাকা, এবং ৫০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিবছর PSA পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, যত দ্রুত প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত করা যাবে, ততই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই ভয় বা সংকোচ না করে নিয়মিত পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সচেতনতা, সময়মতো পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা—এই তিনটিই পারে এই নীরব ঘাতককে পরাস্ত করতে।
খবরওয়ালা/টিএসএন