খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার (৮৫) দরবারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ২৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৮ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজন মসজিদের ইমাম এবং দুইজন স্থানীয় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা রয়েছেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, নুরাল পাগলার দরবারে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় ৮ জন এবং পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের মামলায় ১৬ জনসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ওপর হামলা এবং লাশ উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য, ভিডিও ফুটেজ ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, এই মামলাগুলোর তদন্তে কেউ প্রভাব বিস্তার বা অনৈতিক তদবির করলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, মাজারে হামলা ও ভাঙচুর, সম্পদ লুটপাট, কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন ও পুড়িয়ে ফেলাসহ হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর নিহত রাসেল মোল্লার বাবা আমজাদ মোল্লা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নুরাল পাগলার দরবারে হামলার সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি মামলা করেন। ফলে দুটি মামলায় মোট সাড়ে ৭ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ আগস্ট নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলা মারা যান। এরপর তার অনুসারীরা তাকে দরবারের ভেতরে কবর দেন এবং কবরের ওপর ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন। স্থানীয়দের একাংশ অভিযোগ করে যে, এই স্থাপনাটি মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফের মতো দেখতে।
এ নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের পর শত শত মানুষ ‘দরবার শরিফে’ হামলা চালায় এবং নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নুরাল পাগলার অনুসারী এবং ‘ঈমান-আকিদা রক্ষা কমিটি’র ব্যানারে স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত হন এবং সাংবাদিকসহ ২২ জন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা ইউএনও, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় পাথর নিক্ষেপ ও মারধরের ফলে পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং দুজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহত হন।
খবরওয়ালা/টিএসএন