খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে পৌষ ১৪৩২ | ৮ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সান্তোসের সঙ্গে নেইমারের চুক্তি নবায়নের খবরটি বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হলো—আগামী এক বছরের জন্য সান্তোসেই থাকছেন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। এই চুক্তি কেবল ক্লাব ফুটবলের একটি সিদ্ধান্ত নয়; বরং ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তাও বহন করছে।
চুক্তি নবায়নের পর নেইমার নিজেই আবেগঘন কণ্ঠে বলেছেন, “২০২৬ এসে গেছে। আমার ভাগ্য এর চেয়ে ভিন্ন হতে পারত না। সান্তোসই আমার জায়গা। এখানে আমি ঘরে ফেরার মতো নিরাপদ ও সুখী অনুভব করি। এই ক্লাবেই আমি আমার বাকি স্বপ্নগুলো পূরণ করতে চাই।” এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, সান্তোসকে তিনি কেবল পুনর্বাসনের ঠিকানা নয়, বরং শেষ বড় লক্ষ্য—বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার প্রস্তুতিকেন্দ্র হিসেবেই বেছে নিয়েছেন।
বর্তমানে নেইমারের বাঁ পায়ের আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির পর পুনর্বাসন চলছে। সম্প্রতি তিনি রেই পেলে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ক্লাবের চিকিৎসা বিভাগে ফিজিওথেরাপি নিয়েছেন। ক্লাব সূত্রের ধারণা, জানুয়ারির শেষ নাগাদ তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতেই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরতে পারবেন।
এই এক বছরের চুক্তিটি সান্তোসের সঙ্গে নেইমারের তৃতীয় মেয়াদ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথমে ছয় মাসের জন্য যোগ দেন তিনি, পরে জুনে আরও ছয় মাসের জন্য চুক্তি বাড়ানো হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর সব পক্ষের সম্মতিতেই নতুন মেয়াদের চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তবে বড় প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—বিশ্বকাপের আর ছয় মাসও বাকি নেই, এই সময়ে সান্তোসে থাকা নেইমারের জন্য কতটা কার্যকর হবে?
ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে নেইমার সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। অর্থাৎ প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি জাতীয় দলের বাইরে। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, নাম বা অতীত কীর্তি নয়—ফিটনেসই হবে দলে ফেরার একমাত্র শর্ত। ফলে সান্তোসের জার্সিতে আসন্ন ম্যাচগুলোতেই নেইমারকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলের জন্য প্রস্তুত।
নেইমারের প্রতিভা ও প্রভাব নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছে চোট। অতীতে যতটা লড়াই তাঁকে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করতে হয়েছে, তার চেয়ে বেশি সংগ্রাম করতে হয়েছে শরীরের সঙ্গে। সেই বাস্তবতাই এখন আবার সামনে। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেতে হলে তাঁকে শুধু ভালো খেললেই হবে না, দীর্ঘ সময় ধরে ফিট থাকার প্রমাণও দিতে হবে।
সান্তোসের হয়ে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের তুলনায় ব্রাজিলিয়ান লিগের মান কম—এ কথা আনচেলত্তিও জানেন। ফলে নেইমারের পারফরম্যান্স যে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে যাবে, তা বলাই যায়। আশার দিক হলো, গত মৌসুমের শেষ দিকে চোট নিয়েও মাঠে নেমে তিনি দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত নেইমারের সামনে চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্ট—ফিট হয়ে ফেরা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেওয়া এবং জাতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করা। এই তিনটি ধাপ পেরোতে পারলে ২০২৬ বিশ্বকাপের দরজা আবারও তাঁর জন্য খুলে যেতে পারে। তবে সব কিছুর মূল চাবিকাঠি একটাই—ফিটনেস।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বর্তমান চুক্তি | ১ বছর (২০২৫–২৬ মৌসুম) |
| সান্তোসে মোট মেয়াদ | তৃতীয় দফা |
| সর্বশেষ জাতীয় দল ম্যাচ | অক্টোবর ২০২৩ |
| বর্তমান অবস্থা | পুনর্বাসন পর্যায় |
| প্রত্যাশিত মাঠে ফেরা | ফেব্রুয়ারি ২০২৫ |
| বড় লক্ষ্য | ২০২৬ বিশ্বকাপ দলে ফেরা |
এই চুক্তির মধ্য দিয়ে নেইমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন—তিনি এখনও শেষ হয়ে যাননি। এখন দেখার বিষয়, শরীর কি তাঁর স্বপ্নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে।