খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নেপালের সাধারণ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পথে। ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভার নির্বাচনে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ আসন অর্জনের কদমে, প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোকে হটিয়ে দেশীয় রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের আধিপত্য স্থাপন করছে।
আরএসপির নেতা বালেন্দ্র শাহ, যিনি একসময় র্যাপার হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং পরে রাজনীতিতে এসে কাঠমান্ডুর মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সী এই তরুণ রাজনীতিক নেপালের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন ধারায় পুনঃসংজ্ঞায়িত করছেন।
গত বছরের জেন-জি অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন কে পি শর্মা অলি। তার পর থেকে নেপালের রাজনৈতিক বাতাসে পরিবর্তনের ছোঁয়া আছে, যা এবারের সাধারণ নির্বাচনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বালেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে এই “জেন-জি জোয়ার” বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রভাবশালী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিকদেরও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাস্ত করেছে। তবে এর মধ্যে এক ব্যতিক্রম হল পুষ্প কমল দহল, যিনি নেপালে ‘প্রচণ্ড’ নামে পরিচিত।
পুষ্প কমল দহল একসময় মাওবাদী নেতা ছিলেন। দীর্ঘ এক দশক রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়েছেন। ‘প্রচণ্ড’ নামটি তার গেরিলা পরিচয় হিসেবে প্রসিদ্ধ। পরবর্তীতে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে একাধিকবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকালসমূহ:
| প্রধানমন্ত্রী কার্যকাল | মন্তব্য |
|---|---|
| আগস্ট ২০০৮ – মে ২০০৯ | প্রথমবার ক্ষমতায় আসা |
| আগস্ট ২০১৬ – জুন ২০১৭ | দ্বিতীয়বার |
| ডিসেম্বর ২০২২ – জুলাই ২০২৪ | সর্বশেষ কার্যকাল |
এইবারের সাধারণ নির্বাচনে রুকুম ইস্ট আসন থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। এটি তার টানা পঞ্চমবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়।
অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত নেতা কে পি শর্মা অলি এবারের নির্বাচনে ঝাপা-৫ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই তেরাই অঞ্চলের আসন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। তবুও নিজের দুর্গে পরাজিত হয়েছেন, যা বালেন্দ্র শাহের রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করছে।
প্রভাবশালী অন্যান্য নেতাদের মধ্যে নেপালি কংগ্রেসের গগন থাপা সারলাহি-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও হেরেছেন আরএসপির অমরেশ কুমার সিংয়ের কাছে।
এই নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে নেপালের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের উত্থান, তরুণ ও গতিশীল নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা এবং পুরনো রাজনৈতিক ধারার ক্রমবর্ধমান অবমূল্যায়ন।