খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে পৌষ ১৪৩২ | ৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে উল্লেখযোগ্য সম্পদ ও আয়ের তথ্য। দলটির ছয় প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই পেশায় ব্যবসায়ী এবং সবাই কোটিপতি—যা স্থানীয় রাজনীতিতে অর্থনৈতিক প্রভাবের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
হলফনামা অনুযায়ী, নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট) আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক। তাঁর নিজের ও স্ত্রীর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৯ কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান, যদিও তিনিও কোটিপতি তালিকার বাইরে নন।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবেও প্রার্থীদের মধ্যে বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ব্যবসা থেকে অর্জিত আয়ের ভিত্তিতে নির্বাচনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের ঘোষণা দিয়েছেন, যা ছয় প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ। বিপরীতে, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের প্রার্থী বরকত উল্লাহ ব্যবসা ও কৃষি খাত থেকে আয় করে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন, যা সর্বনিম্ন।
পেশাগত দিক থেকে দেখা যায়, নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন ছাড়া বাকি সবাই হলফনামায় ‘ব্যবসা’কে প্রধান পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ এম মাহবুব উদ্দিন পেশায় আইনজীবী। মামলাসংক্রান্ত তথ্যেও ভিন্নতা রয়েছে—ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বাধিক ৪৬টি মামলা রয়েছে, মাহবুবের রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাত্র তিনটি, আর নোয়াখালী-৪ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের পেশা, আয়ের উৎস, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা সংক্রান্ত তথ্য এবং নিজের ও নির্ভরশীলদের সম্পদ বিবরণীসহ মোট ১০ ধরনের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হয়। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এই হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়, যাতে ভোটাররা প্রার্থীদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পান।
বার্ষিক আয়ের দিক থেকে এগিয়ে নোয়াখালী-২ আসনের প্রার্থী জয়নুল আবদিন। তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ টাকার বেশি। আয়কর প্রদানের হিসাবেও তিনি নিয়মিত করদাতা হিসেবে উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, কয়েকজন প্রার্থীর আয় ও সম্পদের তুলনায় আয়কর প্রদানের অঙ্ক তুলনামূলকভাবে কম—যা নিয়েও জনমনে আলোচনা রয়েছে।
| আসন | প্রার্থী | পেশা | মোট সম্পদের আনুমানিক পরিমাণ | মামলার সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|
| নোয়াখালী-১ | এ এম মাহবুব উদ্দিন | আইনজীবী | ৮ কোটির বেশি | উল্লেখ নেই |
| নোয়াখালী-২ | জয়নুল আবদিন | ব্যবসা | ২০ কোটির বেশি | উল্লেখ নেই |
| নোয়াখালী-৩ | বরকত উল্লাহ | ব্যবসা | ৯ কোটির বেশি | উল্লেখ নেই |
| নোয়াখালী-৪ | মো. শাহজাহান | ব্যবসা | ৪ কোটির বেশি | ০ |
| নোয়াখালী-৫ | মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম | ব্যবসা | ১৯ কোটির বেশি | ৪৬ |
| নোয়াখালী-৬ | মো. মাহবুবের রহমান | ব্যবসা | ৩ কোটির বেশি | ৩ |
সামগ্রিকভাবে, নোয়াখালীতে বিএনপির প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থনৈতিক সক্ষমতা একটি বড় ভূমিকা রাখছে। ভোটারদের জন্য এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা প্রার্থীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারে।