খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় মো. আবদুল আহাদ (১৭) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোর অটোরিকশাচালককে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘাতকরা কেবল প্রাণ কেড়েই ক্ষান্ত হয়নি, কিশোরের অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। আজ রোববার বিকেলে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সী বাড়ি ব্রিজসংলগ্ন একটি নির্জন ধানখেত থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলা ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে শক্ত করে পেঁচানো ছিল, যা এই হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।
নিহত মো. আবদুল আহাদ চট্টগ্রামের ওসমানিয়া ফ্যাক্টরি এলাকার নুরুল আলমের ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে দুই বছর আগে তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে আহাদ তার মায়ের সাথে মামার বাড়িতে থাকত। অভাবের সংসারে হাল ধরতে সে জিলানী নামক এক ব্যক্তির গ্যারেজ থেকে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে চালাত। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে পরিবারকে সহায়তা করত।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে অটোরিকশার মালিক জিলানী আহাদের মাকে ফোনে জানান যে, আহাদ রিকশা নিয়ে গ্যারেজে ফেরেনি এবং তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। আজ দুপুরে স্থানীয় কৃষকরা ধানখেতে কাজ করতে গিয়ে মুখে ও গলায় স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ছিনতাইকারীরা অটোরিকশাটি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই নির্জন স্থানে নিয়ে আহাদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। নিহতের মরদেহে ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং মুখমণ্ডল স্কচটেপ দিয়ে ঢাকা থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, চিৎকার রোধ করতেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল।
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| নিহতের নাম | মো. আবদুল আহাদ (১৭) |
| পিতার নাম | নুরুল আলম |
| স্থায়ী ঠিকানা | ওসমানিয়া ফ্যাক্টরি এলাকা, চট্টগ্রাম |
| ঘটনাস্থল | কুতুবপুর ইউনিয়ন, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | রোববার বিকেল, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| আলামত | মুখে ও গলায় স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থা |
| বর্তমান অবস্থা | ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরিত |
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং সন্দেহভাজনদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী এই কিশোরের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ক্রমবর্ধমান অটোরিকশা ছিনতাই রোধে পুলিশি টহল আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ চালকরা।