বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর ও পদ্মা সেতুর মতো কয়েকটি বৃহৎ কিন্তু অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের কারণে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক দায় সৃষ্টি হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়ের ফল হিসেবে দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ও দামের ওপর।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্স সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপে বাজারে মূল্যস্ফীতি থাকলেও আসন্ন রমজানে কিছু কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতিকে স্বস্তিদায়ক করেছে।
তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা সরকারকে আশ্বস্ত করেছেন যে বাজারে পণ্যের যোগান স্বাভাবিক রয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কোনো কোনো পণ্যের দাম আরও কমতে পারে। বিশেষ করে ভোজ্যতেলের বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারে অতিরিক্ত ৫ লাখ টন রাইস ব্র্যান অয়েল ছাড়া হয়েছে, ফলে তেলের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
তবে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে সমালোচনার সুরে বাণিজ্য উপদেষ্টা পুনরায় বলেন, বিগত সরকারের সময়ে পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল ও পায়রা বন্দরের মতো প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তাঁর দাবি, পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে প্রত্যাশিত হারে জিডিপি বৃদ্ধি না পেয়ে উল্টো চাপ তৈরি হয়েছে। খরচ কমানোর জন্য সরকারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
মন্ত্রীদের জন্য বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো প্রকল্প বা বরাদ্দের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
এর আগে, ১৯ জানুয়ারি নেত্রকোনায় এক মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, পদ্মা সেতু নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে চালের দাম বেড়েছে। তাঁর মতে, ওই অর্থ যদি সেচ খাতে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে চালের দাম কমপক্ষে ৫ টাকা কমতে পারত। বাস্তবে এখন সেই প্রকল্পের আর্থিক দায় বহনের কারণে চালের দাম প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
নিম্নে বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | মূল তথ্য |
|---|---|
| বড় প্রকল্পের প্রভাব | সরকারের আর্থিক দায় বৃদ্ধি |
| মুদ্রা পরিস্থিতি | টাকার অবমূল্যায়ন |
| আন্তর্জাতিক ঋণ | আইএমএফ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ |
| আমদানি পরিস্থিতি | গত বছরের তুলনায় ৪০% বেশি |
| ভোজ্যতেল | ৫ লাখ টন রাইস ব্র্যান অয়েল সরবরাহ |
| রমজান বাজার | কিছু পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা |
সার্বিকভাবে বাণিজ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে স্পষ্ট, অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সরকার রমজানকে সামনে রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সক্রিয় রয়েছে, যদিও অতীতের বড় প্রকল্পগুলোর আর্থিক দায় এখনো নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে।