খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫
পল্লীকবি জসীমউদদীন-এর প্রয়াণ দিবস আজ। ১৯৭৬ সনের ১৪ মার্চ তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার লেখা অসংখ্য পল্লিগীতি এখনো গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।
জসীমউদ্দীন (১৯০৩ – ১৯৭৬) ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলানায় জন্মগ্রহণ করেন। মোহাম্মাদ জমীর উদদীন মোল্লা তার পূর্ণ নাম হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত। বাবার নাম আনসার উদ্দিন মোল্লা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। মা আমিনা খাতুন ওরফে রাঙাছুট।
কবি জসীমউদ্দীন একজন বাঙালি কবি, গীতিকার, ঔপন্যাসিক ও লেখক। ‘পল্লীকবি’ উপাধিতে ভূষিত, জসীমউদ্দীন আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে লালিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ আধুনিক কবি। ঐতিহ্যবাহী বাংলা কবিতার মূল ধারাটিকে নগর সভায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব জসীমউদ্দীনের। তার নকশী কাঁথার মাঠ ও সোজন বাদিয়ার ঘাট বাংলা ভাষার গীতিময় কবিতার উৎকৃষ্টতম নিদর্শনগুলোর অন্যতম। তার কবিতা বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তার লেখা অসংখ্য পল্লিগীতি এখনো গ্রাম বাংলার মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। যথা: আমার হার কালা করলাম রে, আমায় ভাসাইলি রে, বন্ধু কাজল ভ্রমরা রে ইত্যাদি।
জসীমউদ্দীন অল্প বয়স থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। কলেজে অধ্যয়নরত থাকা অবস্থায়, পরিবার এবং বিয়োগান্ত দৃশ্যে, একদম সাবলীল ভাষায় তিনি বিশেষ আলোচিত কবিতা কবর লেখেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাবস্থায় এই কবিতাটি প্রবেশিকার বাংলা পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়।
কবিতাটির কিছু অংশ:
এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা।
সোনালী ঊষায় সোনামুখে তার আমার নয়ন ভরি,
লাঙ্গল লইয়া ক্ষেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।
যাইবার কালে ফিরে ফিরে তারে দেখে লইতাম কত,
এ কথা লইয়া ভাবি-সাব মোর তামাশা করিত শত।
‘যাদের দেখেছি’ গ্রন্থে তিনি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিকথার বর্ণনা করেছেন। জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক ‘জীবন কথা’ পুস্তকের প্রশংসা করেছেন।
জসীমউদ্দীন তাঁর জীবনকালে মাত্র দুটি উপন্যাস রচনা করেছেন। বোবা কাহিনী এবং বউ টুবানীর ফুল। বাংলা সাহিত্যের অন্য দুই কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এবং হাসান আজিজুল হকও মাত্র দুটি করে উপন্যাস লিখেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
রাখালী, নকশী কাঁথার মাঠ, ধানখেত, সোজন বাদিয়ার ঘাট, মাটির কান্না, এক পয়সার বাঁশী, সুচয়নী, পদ্মা নদীর দেশে প্রভৃতি।
নাটক
পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, মধুমালা ইত্যাদি।
জসীমউদ্দীন প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।
ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে জসীমউদ্দীনের কবরস্থান। তার শেষ ইচ্ছা অনুসারে তাকে ফরিদপুর জেলার অম্বিকাপুর গ্রামে তার দাদীর কবরের পাশে দাফন করা হয়। গোবিন্দপুরে প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে তাঁর জন্মদিনকে স্মরণ করে জসীম মেলা নামে একটি পাক্ষিক উৎসব উদ্যাপন করা হয়। তার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলের নামকরণ করা হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমইউ