খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সিনিয়র সহকারী কোচের দায়িত্ব ছেড়ে বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের প্রধান কোচ হিসেবে নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন। আগামী ৮ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজই হবে জাতীয় দলের সঙ্গে তার বর্তমান মেয়াদের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান সিরিজের পরপরই তিনি এইচপি ইউনিটের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে সালাহউদ্দীনকে নিয়োগ দিয়েছিল বিসিবি। তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবির উচ্চপর্যায় এবং সালাহউদ্দীন উভয়ই মনে করছেন, জাতীয় দলের বর্তমান কাঠামোর চেয়ে পাইপলাইন সমৃদ্ধ করার কাজে তিনি বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এ বিষয়ে সম্প্রতি বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে সালাহউদ্দীনের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে এইচপি ইউনিটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ক্রিকেটার তৈরির রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সালাহউদ্দীনের মতে, জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের চেয়ে উদীয়মান তরুণদের নিয়ে কাজ করা এবং তাদের আন্তর্জাতিক মানের জন্য প্রস্তুত করাটাই এই মুহূর্তে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এবং আগ্রহের জায়গা।
জাতীয় দলের সঙ্গে গত দেড় বছর কাজ করার অভিজ্ঞতায় সালাহউদ্দীন দলের নির্দিষ্ট কিছু দুর্বলতা চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে একজন কার্যকর অলরাউন্ডারের অভাব তিনি গভীরভাবে অনুভব করেছেন, যিনি ৭ বা ৮ নম্বর পজিশনে ব্যাটিং করার পাশাপাশি বোলিংয়েও নির্ভরতা দিতে পারবেন। এইচপি ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে এই ধরনের বিশেষায়িত ক্রিকেটার তৈরি করা।
সালাহউদ্দীনের মতে, এইচপি ইউনিটের কার্যক্রম কেবল তিন-চার মাসের ক্যাম্পে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তিনি সারা বছর ধরে এই কার্যক্রম চালু রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন, যাতে ক্রিকেটাররা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের ক্রিকেটীয় দক্ষতা, চিন্তাভাবনা এবং জীবনযাপন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
সালাহউদ্দীনের এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পাশাপাশি বিসিবির ক্রিকেটীয় কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বর্তমান কাঠামোতে অনূর্ধ্ব-১৯, এইচপি, বাংলাদেশ টাইগার্স এবং জাতীয় দল—এই চারটি স্তর থাকলেও নতুন পরিকল্পনায় ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’ ইউনিটটি বিলুপ্ত করা হচ্ছে। এর পরিবর্তে যুক্ত হচ্ছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এটি অনূর্ধ্ব-১৯ এবং জাতীয় দলের মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ সেতু বা সিঁড়ি হিসেবে কাজ করবে।
নিচে বিসিবির বর্তমান ও প্রস্তাবিত কোচিং ও উন্নয়ন কাঠামোর একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | নতুন বিন্যাস (প্রস্তাবিত) |
| জাতীয় দলের সহকারী কোচ | মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন | শূন্য (নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন) |
| এইচপি প্রধান কোচ | ডেভিড হেম্প | মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন |
| ডেভিড হেম্পের দায়িত্ব | এইচপি প্রধান কোচ | অন্য বিভাগীয় দায়িত্ব (বিসিবি নির্ধারিত) |
| উন্নয়ন স্তরের কাঠামো | অনূর্ধ্ব-১৯, এইচপি, টাইগার্স, জাতীয় দল | অনূর্ধ্ব-১৯, এইচপি, অনূর্ধ্ব-২৩, জাতীয় দল |
| অনুশীলন ব্যবস্থা | মেয়াদী ক্যাম্প ভিত্তিক | সারা বছর ব্যাপী বিশেষায়িত অনুশীলন |
নতুন পরিকল্পনার আওতায় এইচপি ইউনিটকে কেবল জাতীয় দলে ওঠার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই ব্যবহার করা হবে না, বরং এটি একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। জাতীয় দলের কোনো ক্রিকেটার যদি ফর্ম বা টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বিশেষ অনুশীলনের প্রয়োজন বোধ করেন, তবে তিনি এইচপি ইউনিটে এসে সালাহউদ্দীনের তত্ত্বাবধানে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন এইচপির দায়িত্ব নিলেও তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ (২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত) অপরিবর্তিত থাকছে। তার এই নতুন ভূমিকা বাংলাদেশের ক্রিকেটের পাইপলাইনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের জন্য মানসম্পন্ন ক্রিকেটার সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলে বিসিবি আশা প্রকাশ করছে। এইচপির বর্তমান প্রধান কোচ ডেভিড হেম্পকে সরিয়ে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে বোর্ড।