খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 15শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৩০ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম) বলেছেন, ড. ইউনূস আপনি যদি মুক্তিযোদ্বার পক্ষে হয়ে থাকেন তাহলে লতিফ সিদ্দিকীকে যখন বলা হয়েছে লতিফ সিদ্দিকীর দুই গালে জুতা মারো তালে তালে তখনি ড. ইউনূস আপনার দুই গালেও জুতা মারা হয়েছে। আর যদি মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে থাকতেন তাহলে এই রকম হওয়ার কথা ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ করে যদি পাকিস্তানের কাছে অত্যাচারিত হতে হয় তাও শান্তি কিন্তু বাংলাদেশে পাকিস্তানি মনোভাব নিয়ে পোলাপান জন্ম নিল কিভাবে?
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কাদেরিয়া বাহিনীর উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘ওয়াকার সাহেবকে আমি ভালোভাবে চিনি না তবে আগে তার গ্রামে অনেক সময় কাটিয়েছি। সেনাবাহিনী অনেক গর্বের, অন্য দেশে সেনাবাহিনী পরে হয় কিন্তু আমাদের দেশে সেনাবাহিনী আগে হয়েছে। হাসিনা হটাও আন্দোলনে সেনাবাহিনী যে ভূমিকা রেখেছে তা জনগণ হাজার বছর মনে রাখবে। কেউ কেউ বলছে সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্ট পুড়িয়ে- দেবে তাদের দেখে নিন আপনি। গত ৫ আগস্ট আপনি বলেছিলেন ভরসা করতে দেশ হেফাজত করবেন? কিন্তু আজ কোথায় হেফাজত? ৭১ মঞ্চের অনুষ্ঠানে যারা মব করেছে তারা অপরাধী না যারা ভাঙতে গেছে তারা অপরাধী? আপনি দেখেন না কে অপরাধী? ২৬ বছর যাবত কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও একইসঙ্গে জেলে গেছে। আর কোটা আন্দোলনের কারণে শেখ হাসিনার বিদায় হয়নি, আল্লাহর গজবের কারণে হাসিনার বিদায় হয়েছে।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘৭১ সালে যেমন সবাই একত্রে হয়েছিলাম ঠিক তেমনিভাবে ২৬ সালেও আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।’
সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, ‘যে দেশে বঙ্গবন্ধুর উপর প্রস্রাব করা হয় সে দেশে আমরা থাকতে পারি না, আমরা বঙ্গবন্ধুর এই অপমান মেনে নেব না। মুক্তিযোদ্ধারা কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সবাই ঐক্য গড়ে তোলেন। ৭১ বাদ দিয়ে কখনো বর্তমান হবে না। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আমরা আগুনে ঝাঁপ দিতে পারি। যারা বঙ্গবন্ধুর উপর প্রস্রাব করেছে তারা অশিক্ষিত। অপর দিকে সরকার লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে, তাকে শুধু গ্রেপ্তার করেই ক্লান্ত হয়নি তারা অপমান করেছে। আমরা লতিফ সিদ্দিকীর মুক্তি চাই।’
কোম্পানি কমান্ডার ফজলুল হক বীর প্রতীকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রম, কোম্পানি কমান্ডার হুমায়ুন বাংগাল, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই ও কালিহাতি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে অনুষ্ঠান শেষে ভুঞাপুর উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতির ছেলে উদয়ের ওপর হামলা চালায় উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা।