খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে মাঘ ১৪৩২ | ২৬ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট যে চরম সংকটের মুখে পড়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার ঝড় বইছে। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ক্রিকেটার মদন লাল বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তকে ‘বিরাট ভুল’ এবং ‘আত্মঘাতী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্ভবত পাকিস্তানের প্ররোচনায় ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, যার মাশুল দিতে হবে দেশটির কয়েক প্রজন্মের ক্রিকেটারদের।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সেখানে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। এর পরিবর্তে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয় বিসিবি। তবে আইসিসি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করে এবং স্কটল্যান্ডকে মূল আসরে অন্তর্ভুক্ত করে। মদন লাল আইসিসির এই অবস্থানকে ‘শতভাগ সঠিক’ বলে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আইসিসি একটি কঠোর বার্তা দিয়েছে যে, কোনো একক দেশের খামখেয়ালিপনায় বিশ্ব ক্রিকেটের বড় ইভেন্ট বাধাগ্রস্ত হতে পারে না।
বিসিবির সংকট ও কূটনৈতিক পরাজয়ের একনজরে পরিসংখ্যান:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| বিসিবির মূল দাবি | নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অজুহাতে ভারতে না যাওয়া। |
| আইসিসির পাল্টা পদক্ষেপ | বাংলাদেশকে বহিষ্কার ও স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্তিকরণ। |
| ভোটের ব্যবধান | ১৪টি ভোটের বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষে পড়েছে মাত্র ২ টি ভোট। |
| ব্যর্থতার ধরণ | চরম কূটনৈতিক পরাজয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে হওয়া। |
| আর্থিক প্রভাব | আইসিসি থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক অনুদান ও স্পন্সরশিপ বাতিলের ঝুঁকি। |
| ভবিষ্যৎ শঙ্কা | ২০২৮ অলিম্পিক ও পরবর্তী আইসিসি ইভেন্ট থেকে নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা। |
মদন লাল তাঁর সাক্ষাৎকারে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দিক উন্মোচন করেছেন। তিনি মনে করেন, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) নেপথ্য থেকে বিসিবিকে এই বয়কটের পথে উৎসাহিত করেছে। ১৯৮৩-র বিশ্বকাপজয়ী এই অলরাউন্ডার ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, “পাকিস্তান নিজে ঠিকই ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলছে, অথচ তারা সুকৌশলে বাংলাদেশকে ভুল বুঝিয়ে এই টুর্নামেন্ট থেকে বাইরে রাখল। এটি বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল ট্র্যাজেডি।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, বর্তমান ক্রিকেট বিশ্ব মূলত বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিতে চলে। আইসিসির মতো শক্তিশালী সংস্থার সাথে সংঘাতে গিয়ে বিসিবি কেবল মর্যাদা নয়, বরং বিশাল অংকের রাজস্বও হারাবে। যদি আগামী বিশ্বকাপগুলোতেও এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকে, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।
আইসিসি বোর্ড সভায় বাংলাদেশের পক্ষে মাত্র দুটি ভোট পড়াকে বিসিবির চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন মদন লাল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একটি আন্তর্জাতিক সভার আগে কি বিসিবির কর্তারা জানতেন না তাঁদের পক্ষে কতজন সদস্য আছেন? অন্তত ৫-১০টি ভোট পেলেও একটি কথা ছিল। ১৪ ভোটের বিপরীতে ২ ভোট পাওয়া মানে হলো বিশ্ব ক্রিকেটে আপনাদের কোনো মিত্র নেই।”
মদন লালের এই পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতি ও ভুল সিদ্ধান্তে একটি উদীয়মান ক্রিকেট শক্তির এমন পতন কাম্য নয়। এখন দেখার বিষয়, আইসিসির এই কঠোর সিদ্ধান্তের পর বিসিবি তাদের ভুল সংশোধন করে পুনরায় আন্তর্জাতিক মূলধারায় ফেরার কোনো পথ খুঁজে পায় কি না।