খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে একজন বাংলাদেশি তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্রবার গভীর রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে যে ১৭ জন টিটিপি সদস্য নিহত হন, তাদের মধ্যে ফয়সাল হোসেন মোড়লও ছিলেন। দরশাখেল এলাকার শাহ সেলিম থানার কাছে সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযানে ঐ যুবক মারা যান। গতকাল রবিবার এই সংবাদটি প্রকাশ্যে আসে।
নিহত যুবকের পরিচয়
স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যায়, নিহত বাংলাদেশি এই যুবকের বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চরনাচনা গ্রামে। ফয়সাল হোসেন ঐ গ্রামের আউয়াল মোড়লের পুত্র। দুই বছর আগে সে পরিবারের কাছে বিদেশে, বিশেষত দুবাই যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। পরিবার অর্থের সংস্থান করতে ব্যর্থ হওয়ায় ফয়সাল হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। এর প্রায় ছয় মাস পর ফয়সাল তার বড় ভাইয়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানায় যে, সে দুবাইয়ে আছে। কোনোমতে অর্থ সংগ্রহ করে সে দুবাই পৌঁছে গেছে এবং সেখানে সুস্থ আছে। বিস্তারিত কিছু জানতে চাইলে সে উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকত।
নিহত ফয়সালের ছবি দেখে তার চাচা আব্দুল হালিম মোড়ল সংবাদটি নিশ্চিত করেন। তবে ফয়সালের পিতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফয়সালের বয়স ২১-২২ বছর। সে পরিবারের সহায়তায় দুবাই যেতে চেয়েছিল, কিন্তু পরিবার তাতে সায় দেয়নি। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সে দেশ ত্যাগ করে। দেশে থাকার সময় সে ধর্মীয় রীতি-নীতি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করত এবং হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরে তাসবিহ, টুপি, আতর সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রয় করত।
গত ঈদুল আজহার সময় মাদারীপুরের গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা তাদের বাড়িতে খোঁজ নিতে আসেন। তখনই পরিবার জানতে পারে যে ফয়সাল আফগানিস্তানে অবস্থান করছে। গতকাল সকালে ফয়সালের পরিবার পাকিস্তানে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারে।
ফয়সালের চাচা হালিম মোড়ল বলেন, ‘ভাতিজার বিষয়ে আমরা জানতে পারি গত ঈদুল আজহার সময়। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সে আফগানিস্তান আছে। ২০২৪ সালের মার্চে দেশ ছাড়ার প্রায় ৬ মাস পর সে বড় ভাই আরমান মোড়লকে মোবাইল ফোনে কল করে জানায়, দুবাই আছে এবং ভালো আছে। তবে বিস্তারিত কিছু জানতে চাইলে সে উত্তর দিত না।’
পাকিস্তানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নিহত বাংলাদেশির কাছ থেকে পরিচয়পত্র, টাকা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত দ্রব্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে। ঐ অভিযানে মোট ১৭ জন জঙ্গি নিহত হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন